হার থেকে শিক্ষা নিতে হবে তবেই জয় নিশ্চিত, বিজেপি নেতাদের পরামর্শ স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীর

২০২১ এর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে বিপুল পরিমাণ ভোটে তৃণমূলের কাছে পরাজিত হয় গেরুয়া শিবির। অসম এবং পুদুচেরিতে বিজেপি সরকার জয়ী হলেও কেরল, তামিলনাড়ু এবং বাংলায় বড় বড় ধরনের পরাজয় ঘটেছে বিজেপির। এই সমস্ত পরাজয়ের কারণ সম্পর্কে দলের সমস্ত সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে গত সোমবার বিস্তারিত আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজ বাসভবনে।

 

প্রতিটি নির্বাচন নিয়ে তিনি আলাদা আলাদা ভাবে আলোচনা করেন। এর সাথে বিজেপির নেতৃত্বদের কিছু পরামর্শ দেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য , “পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিজেপি কর্মীদের অবশ্যই দেখতে হবে কিভাবে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে এত খারাপ ফল করার পরেও তৃণমূল এত বড় একটি জয়ে ফিরল। যখন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪২ টি আসনের মধ্যে ১৮ টি দখল করেছিল বিজেপি।”

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, “জয় এবং পরাজয়ে যাই হোক একইভাবে বিজেপিকে নিজেদের পারফরম্যান্স বিচার করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে প্রস্তুত হওয়া যায়।” সমস্ত আঞ্চলিক ভাষার উপর বিজেপি কর্মীদের দখল থাকার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়াকে আরো ভালো করে ব্যবহার করার জন্য বিজেপি কর্মীদের আঞ্চলিক ভাষার ওপর আরো দক্ষতা থাকা দরকার।”

পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তিনি এদিন বক্তব্য রাখেন। কেরালায় বিজেপি পার্টির নেতৃত্বদের খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের সাথে আরো বেশি খোলামেলা ভাবে মেশার পরামর্শ দেন। করোনার মুহূর্তে বিজেপি কর্মীদের তেমনভাবে মাঠে নামতে দেখা যায়নি তাই তাঁরা সমালোচনার মুখে পড়েন। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করে অগ্রিম প্রস্তুতি নিতে গোটা দেশে প্রায় এক লক্ষেরও বেশি কর্মীকে স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে “সেবাই সংগঠন” প্রকল্পটি। কেন্দ্রীয় সরকারের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে আর্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করে দিয়েছেন বিভিন্ন বিজেপি কর্মী সর্মথকরা। পশ্চিমবঙ্গবাসীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার গ্রাম এবং ৬০ হাজার শহরে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গতকালকের বৈঠকে।