দিন দিন বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম, অবশেষে বিরক্ত হয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে একজোড়া ঘোড়া কিনলেন বাংলার যুবক

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ । তারপর যেভাবে দৈনন্দিন মূল্যবৃদ্ধি বাড়ছে এবং তার সঙ্গে দেশে পাল্লা দিয়ে বেকারত্ব বাড়ছে তাতে আমজনতারা স্বাভাবিকভাবে খুবই বিপাকে পড়েছেন। এমতাবস্থায় রাজ্যে এখনও পর্যন্ত পেট্রোল ডিজেলের উপর ভ্যাট কমানো হয় নি । যদিও কেন্দ্র সরকার পেট্রোল ডিজেলের শুল্কে ইতিমধ্যে ছাড় দিয়ে দিয়েছে । কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে বিপাকে রয়েছেন রাজ্যবাসী। সাধারণ মানুষের পক্ষে রোজকার পেট্রোলের দাম জোগানো মুখের কথা নয় ।

এমত অবস্থায় ব্যান্ডেলের এক যুবক পেট্রোল-ডিজেলের খরচ বাঁচাতে একজোড়া ঘোড়া কিনে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। পেট্রোলের খরচ বাঁচাতে নিত্যদিনের যাতায়াতের সঙ্গী হিসেবে তিনি ঘোড়াকে নির্বাচন করেছেন। এছাড়া সেই যুবকের মতে বিশ্ব উষ্ণায়নের হাত থেকেও তিনি পৃথিবী কে বাঁচাবেন তাঁর এই অভিনব পন্থার মধ্য দিয়ে। এই যুবককে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাও উৎসাহিত হয়েছেন অনেকেই তাঁর কাছে অশ্বারোহণে প্রশিক্ষণের জন্য ছুটে আসছেন । এককথায় মিডিয়াতে যথেষ্টই শোরগোল ফেলে দিয়েছে এই যুবক।

এই যুবক হুগলির চুঁচুড়া থানার ব্যান্ডেল রোডের বাসিন্দা। তার বাবার নাম দীপক কুমার রায়। পেশায় তিনি একজন প্রাক্তন সেনা কর্মী। যুবকের মাতার নাম মিনতি রায়। ব্যান্ডেলের এই যুবকের নাম অলক রায় । অলক কর্মসূত্রে প্রায় আট বছর সৌদি আরবে ছিলেন । সৌদি আরবের এক নামকরা কোম্পানির হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর হিসেবে তিনি কাজ করতেন । কিন্তু করোনাকালীন পরিস্থিতিতে লকডাউনে জেরে তিনি সৌদি আরব থেকে ব্যান্ডেল ফিরে আসেন। সৌদি আরবে থাকাকালীন তিনি অশ্বারোহন শিখেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন তিনি কর্মহীন থাকায় পেট্রোলের দাম যোগাতে কার্যত নাজেহাল অবস্থা তাঁর। এছাড়াও অলক মোটর বাইক প্রেমী। তাঁর একাধিক বাইক ও আছে।

দীর্ঘদিন লকডাউন এর জেরে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। এমতো পরিস্থিতিতে হঠাৎ অলোকের এই ভাবনা চিন্তা মাথায় আসে। পেট্রোল-ডিজেলের খরচ বাঁচাতে তিনি ঘোড়ায় চড়ে যাতে সিদ্ধান্ত নেন। চিন্তার ফলশ্রুতি হিসেবে তিনিই এই বছর জন্মাষ্টমীর দিন কলকাতার হেস্টিংস থেকে কাঠিয়াওয়ারা প্রজাতির একটি ঘোড়া কেনেন । এই ঘোড়া কিনতে তাঁর খরচ পরে দু লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা।

চলতি বছর কালীপুজোর দিন তিনি তিন লক্ষ টাকা দিয়ে আরও একটি ঘোড়া কেনেন। তাঁর দুটি ঘোড়ার নাম রাজু এবং মুসকান। ব্যান্ডেলে রাস্তায় রাজু ঘোড়ার পিঠে চড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ সারেন । ঘোড়ার পিঠে চড়ে টগবগিয়ে আওয়াজ শুনে সাধারণ আমজনতারা রীতিমত অবাক হয়ে তাকায় । অলকের কথায় রোজ পেট্রোল খরচ পড়ে আড়াইশো টাকা ।

এছাড়া গাড়ির ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ হয় । ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করলে একদিকে যেমন পেট্রোল খরচ কমবে, অন্যদিকে পৃথিবীর উষ্ণায়ন এর হাত থেকে রক্ষা পাবে। বর্তমানে এলাকার বহু মানুষকে তাঁর কাছে আবদার করছে ঘোড়ায় চড়ার প্রশিক্ষণের জন্য। অবশ্য এই আবদারে খুবই খুশি অলক।