দেখা নেই ডিএর! বাড়ছে না বেতন! ঝুলে ষষ্ঠ বেতন কমিশন! নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে বসে দলের শীর্ষ নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়লেন তৃণমূলের মহাসচিব।

দেখা নেই ডিএর। বাড়ছে না বেতন। এখনও ঝুলে ষষ্ঠ বেতন কমিশন। তার সময়সীমা আরও সাত মাস বেড়েছে। দীর্ঘ দিনের বেতন বঞ্চনা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী মহলে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে অসন্তোষ। আর সেই অসন্তোষ এবার প্রভাব ফেলল ইভিএমে। পোস্টাল ব্যালট গণনায় দেখা গিয়েছে বিজেপির দখলে গিয়েছে ৩৯টি আসন। নির্বাচন কমিশনের এই তথ্য দেখে মাথায় হাত শাসক শিবিরে। তবে মহার্ঘ্যভাতা এবং বেতন কমিশন আটকে রেখে ক্লাব আর পুজো কমিটিকে কেন লক্ষ লক্ষ টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার?

বিরোধীদের নয় বরং নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে বসে দলীয় শিক্ষক নেতাদের এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো তৃণমূলের মহাসচিব তথা তৃণমূলের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় কে।তবে এই বিষয় নিয়ে তিনি সরাসরি কোন জবাব না দিলেও শিক্ষকদের পেশাগত দাবি-দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।সেই সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের প্রচারে তাঁদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।

পোস্টাল ব্যালটের বড় অংশই এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়েছে। দু’একটি জায়গা ছাড়া সর্বত্রই সরকারি কর্মচারীদের এই ভোটের হাল দেখে উদ্বিগ্ন শাসকদলের নেতৃত্ব। লোকসভা ভোটের ফল বিশ্লেষণে দলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে সেই আঁচ টের পেলেন তাঁরা। দলীয় সংগঠনের নেতারা তাদের নির্বাচন প্রচার কাজে নেমে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে তাছাড়া শিক্ষা মন্ত্রী কে বলেন এই বৈঠকের।দলীয় সূত্রে খবর অনুসারে জানতে পারে যায় প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের একাধিক জেলা নেতৃত্ব মন্ত্রী কে সরাসরি সরকারি বঞ্চনার কথা জানিয়েছেন।

এই দিনেই বৈঠকে তারা পার্থ বাবু কে প্রশ্ন করেন শিক্ষকদের প্রাপ্ত টাকা না দিয়ে ক্লাব পুজো কমিটিকে কেন এই অনুদান সংস্কৃতিক কর্মীদের ভাতা কিভাবে দেওয়া হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে এই বৈঠকে।সংগঠনের তরফে এ নিয়ে সরকারের পক্ষে বলার মতো কিছু ছিল না তাঁদের। এই দিন এই বৈঠকে শিক্ষকদের বদলি নিয়েও সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা দাবি করেন, বদলির ক্ষেত্রে সংগঠনের কোনও গুরুত্বই ছিল না।


ফলে সে ক্ষেত্রে শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষা করা যায়নি। বৈঠকে একাধিক প্রতিনিধি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারে শিক্ষকদের কাছে গেলে মহার্ঘ্য ভাতা, বেতন কমিশন ও নির্দিষ্ট বেতন স্কেল নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই। সংগঠনের রাজ্য নেতাদের অনেকেই মহাসচিবকে জানিয়েছেন, শুধু নির্বাচনের সময়ই নয়, তার আগে কয়েকমাস ধরে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে নেমে এই অসন্তোষ বোঝা গিয়েছিল। কিন্তু দলের কোনও স্তরেই তা জানানোর সুযোগ হয়নি। শিক্ষক নেতাদের ক্ষোভের মুখে পার্থবাবু অবশ্য জবাব দিতে পারেননি।

সূত্রের খবর, শিক্ষক নেতাদের মুখে এহেন প্রশ্ন শুনে পিআরটি স্কেল চালুর কথা পার্থবাবুও স্বীকার করে নেন। তবে, এর সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থের বোঝা থাকায় তাঁর একার পক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। শিক্ষকদের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে সরকার বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে বলেও আশ্বাস দেন পার্থ।

আরও পড়ুন :