আগে সন্ত্রাস দমনে ব্যবস্থা নিক পাকিস্তান, তারপরে আলোচনায় বসা যাবে। জিনপিংকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি…

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন কিরঘিজস্থানের রাজধানী শহর বিশকেক-এ রয়েছেন, কারণ 13 জুন ও 14 জুন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) রয়েছে তার বৈঠক।ভারত ছাড়াও এসসিও-র জন্য যে দেশগুলি সদস্য রয়েছে সেগুলো হল রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান, কিরঘিজস্তান, কাজাকস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। বিশেকেক-এ এই সময় সব দেশের রাষ্ট্রনেতারা উপস্থিত রয়েছেন। আর এখানেই একটি একান্ত বৈঠকে চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংকে পাকিস্তান সম্পর্কে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী।

এই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জিনপিং কে সাফ জানিয়ে দিলেন সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান যদি কোন কড়া পদক্ষেপ না ওঠায় তাহলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করা যাবে না তাদেসাথে। মোদিজি বিশশোকের এসসিওর শীর্ষ সম্মেলনের বৃহস্পতিবার দিন জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করে সন্ত্রাস মোকাবেলায় ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে দিল্লির মতামত জানিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই সময় হল পাকিস্তানে সন্ত্রাস মুক্ত পরিবেশ তৈরি করার।

তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ভারতের বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে জানান, নয়াদিল্লি আশা করছে, খুব শীঘ্রই ইসলামাবাদ এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেবে। যেমন কি আপনারা জানেন 14 ই ফেব্রুয়ারি ভারতের পুলওয়ামায় জঙ্গি সংগঠনের হামলায় ভারতে 40 জন সিআরপিএফ জওয়ানেরা শহীদ হন। আর তারপর থেকে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের উপর এমনিভাবেই আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। এই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান বদলে সায় দেয় বেজিংও। ফলে একের পর এক জঙ্গি কার্যকলাপের জেরে পাকিস্তান এখন এক রকম কোণঠাশা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আর কিছুদিন আগে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার বিদেশমন্ত্রীর শাহ মেহমুদ কুরেশি চিঠির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে।আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংকে পাকিস্তান সম্পর্কে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন মোদী।

এখনো পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী যা জানতে পারা গেছে সেখানে এটা স্পষ্ট জানা যাচ্ছে যে বিশকেকে এই শীর্ষ সম্মেলনে মোদী ও ইমরান দু’জনেই উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও, দু’জনের একান্ত বৈঠকের সম্ভাবনা তেমন নেই বললেই চলে।