এবার চেনাব নদীতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আতঙ্কিত পাকিস্তান! মোক্ষম জবাব ভারতের

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে সিন্ধু নদের শাখা নদী চেনাব অববাহিকায়, ভারত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। সে সম্পর্কে পাকিস্তান এর আপত্তি নিয়ে নতুন দিল্লিতে ভারত ও পাকিস্তানের সিন্ধু নদের জল কমিশনারদের বৈঠক হয়েছে। সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার ভারতের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছে পাকিস্তান। তাদের একটাই দাবি ভারত ১৯৬০ সালে সিন্ধু জল চুক্তি লংঘন করেছে। এবার ফের একবার একই দাবি তুলতে দেখা গেল পাকিস্তানকে। এবারে ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে আবারো বাধা দান করল পাকিস্তান।

তবে ভারত কোন ও ক্ষেত্রে চুক্তি লঙ্ঘন করে নি। এ বিষয় চরম আপত্তি দায়ের করেন পাকিস্তানের সিন্ধু জল কমিশনের প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ মেহের আলী শাহ।ভারতের পক্ষ থেকে ভারতীয় সিন্ধু জল কমিশনের প্রধান, প্রদীপ কুমার সাক্সেনা জানিয়েছেন, এই জলবিদ্যুৎ বন্টনের নকশা সম্পূর্ণভাবে চুক্তি মেনে চলে শুধু তাই নয় কেন্দ্রীয় জল কমিশন ও এই নকশা কে মান্যতা দিয়েছেন। তাই প্রদীপ কুমার সাক্সেনা মতে, ভারতের অধিকার রয়েছে নিজের এলাকায় তার মতো করে উন্নয়ন করার এবং অধিকার প্রয়োগ করার।

আন্তঃসীমান্ত জল বন্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও চলছে এক চরম টানাপোড়েন।এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘিরে পাকিস্তান তিন মাসের মধ্যে আপত্তি জানালেও চেনাবো নদীর উপর তৈরি জলবিদ্যুৎ তৈরির নকশা সম্পূর্ণরূপে বৈধ বলে মনে করছে ভারত। জানা গিয়েছে এই প্রকল্পে প্রায়, ৪২৮৭.৫৯ কোটি টাকা খরচ করতে চলেছে ভারত। প্রকল্প টি তৈরি হলে এক প্রভূত উন্নতি সাধন হবে জম্মু এবং কাশ্মীরের। কারণ এই মহা প্রকল্পের মোট ক্ষমতা ৬২৪ মেগাওয়াট।

কৃষি তথা খাদ্য সুরক্ষার জন্য সিন্ধু নদের জল পাকিস্তান বাসীদের জীবনরেখা।এখানেই শেষ নয়, পাকিস্তানের সন্দেহ, ভারতের দিকের দিলাম এবং চেনাব নদীর উপর শ’খানেক বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করছে ভারত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী পূর্বের তিন নদী অর্থাৎ রাভি,বিয়াস এবং শতলজের জল ব্যবহার করার সম্পূর্ণ অনুমতি রয়েছে ভারতের। অন্যদিকে পশ্চিমের নদী অর্থাৎ চেনাব বা চন্দ্রভাগা, সিন্ধু এবং ঝিলমের জল কোনো রকম বাধা ছাড়াই ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে পাকিস্তানের।

ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতার অন্যতম প্রধান কারণ সিন্ধু নদের জল বিরোধ। এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশে বিদ্যুতের আকাল। ভৌগলিক দিক থেকে উজানে অবস্থিত প্রতিটি দেশ নিজ ভূখণ্ড দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির জল আটকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করতে চলেছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নদীর জল পাকিস্তানের যাওয়া আটকে দেবে বলে হুমকি দেওয়ায় দুই দেশ ভারত-পাকিস্তান এর মধ্যে দূরত্ব আরো বেড়ে যায়।