দেশনতুন খবরবিশেষ

চরম আর্থিক সংকটের মুখে পাকিস্তান, ক্ষতি কয়েক কোটি টাকার…

ভারতের সাথে টক্কর নেওয়ার ফল যে কি হতে পারে তা এখন হাতে নাতে প্রমান পাচ্ছে পাকিস্তান। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে পাকিস্তানের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। গত চার বছরে তুলনা করতে গেলে এ বছরে সব থেকে বেশি বেড়েছে। গাল্ফ টাইমসের খবর অনুযায়ী, পুলওয়ামায় হামলার পর অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানি মুদ্রাস্ফীতি 8.2 শতাংশ পৌঁছে গেছে। ভারতে জঙ্গি হামলার পর ভারতের কড়া পদক্ষেপ ফলে পাকিস্তানের মুদ্রার দামেরও পতন হয়েছে । অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতের এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে পাকিস্তানে কোটি কোটি টাকার লোকসানের সম্মুখীন হতে চলেছে।

 

 

পাকিস্তান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ছিল 7.19 শতাংশ। পরের মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের টমেটো, আদা, চিনি, চা, মাংস, গুড়, ঘি, মাছ, মুগ ডাল, ডিম ভোজ্য তেল ইত্যাদির দাম 3.21 শতাংশ থেকে এক ধাক্কায় বেড়ে 179.40 শতাংশ পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে।স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের জিনিসের দাম যখন এত বেশি হওয়ার ফলে প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে। ফলে এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পর থেকেই মোস্ট ফেভারিট নেশনের তালিকা থেকে পাকিস্তান কে বাদ দিয়ে দিয়েছে ভারত। শুধু বাদ দেওয়াই নয় পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক ভাবেও লোকসানে ফেলার জন্য নানান কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের বিরোধিতা শুধু ভারতেই করছে না, আরও বাকি দেশগুলো পাকিস্তানের সমালোচনায় সরব হয়েছে।

 

রাষ্ট্রপুঞ্জের ছাড়াও অন্যান্য দেশ গুলির কাছেও পাকিস্তানের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে। তাই ভারতের মতন বাকি দেশগুলোও পাকিস্তানকে সাহায্য করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এখন। পাক বিদেশ মন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি মুখ লুকিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এরকম একটা পরিস্থিতিতে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ওয়াইসি (OIC) বৈঠক থেকে পাক বিদেশ মন্ত্রী পালিয়ে গেছে। যেদিকে পাকিস্তানের বিরোধিতা করছে সমস্ত ইসলামিক দেশ সেখানে ভারতকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে বাকি দেশগুলি। এ অবস্থায় সমস্ত দেশ গুলি ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই পাকিস্তানের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

 

এখন দেখার বিষয় হলো পাকিস্তানের মতো দেশ যা আগে থেকেই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ছিল এখন আরো দুর্বল হয়ে পড়ায় ইমরান খানের সরকার কিভাবে তা সামাল দিতে পারে।

Related Articles

Back to top button