প্রতি 84 হাজারের পিছু একটা আইসোলেশন বেড, আর 11 হাজার রোগী পিছু রয়েছে 1 টা ডাক্তার- করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রয়েছে পরিকাঠামোর অভাব…

ভারতের জনসংখ্যার পরিমাণ 135 কোটি আর এই ক্ষেত্রে নেই এত পরিমাণে চিকিৎসার ও ব্যবস্থা। তাই ভারতে যদি এই করোনা সংক্রমণ বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সেক্ষেত্রে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে গোটা দেশকে। আর ঠিক এই তথ্যই প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। তাই ভারতকে যদি এরকম এক ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে দেশের জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে এর পাশাপাশি সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দিতে হবে সকলকে।

কারণ যদি সামাজিক মেলামেশার মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সেসব রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য ভারতে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাবার মতো জায়গার ঘাটতি রয়েছে। তবে এখন সরকারি তথ্য অনুযায়ী ভারতে যে পরিসংখ্যান বেরিয়ে এসেছে তা দেখলে হয়তো আপনার চোখ মাথায় উঠতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে যে পরিসংখ্যান বেরিয়ে এসেছে তার দরুন হিসেব করে দেখতে গেলে জানতে পারা গেছে ভারতে প্রতি 84 হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাত্র একটি করে আইসোলেশন বেড।

আর যদি দেশবাসীকে এক্ষেত্রে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হয় তাহলে তার জন্য 36 হাজার লোকের জন্য ধার্য রয়েছে একটি বেড। তাই ভারতের এই পরিসংখ্যান শুধু চমকে দেওয়ার মতো নয় রাতে ঘুম উড়িয়ে দেয়ার মত তথ্য। তবে শুধু তাই নয় এক্ষেত্রে যদি করোনা সংক্রমণ দেশে মহামারির আকার ধারণ করে নেয় তাহলে সে ক্ষেত্রে ডাক্তার ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মীর ও অভাব রয়েছে দেশে‌।এক্ষেত্রে পরিসংখ্যান অনুযায়ী যা জানতে পারা গেছে তাতে দেখা গেছে প্রতি 11,600 জনের জন্য ডাক্তারের সংখ্যা রয়েছে মাত্র একজন।

আর প্রতি 1,826 জন রোগীর জন্য হাসপাতালে বেড সংখ্যা রয়েছে মাত্র একটি করে।এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তরফ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে সরকারি পরিসংখ্যান এর কথা জানতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাই তিনি এরকম লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তবে এই যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন কতটা উপকারী হবে সেই বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে সার্বিক স্তরে। অন্যদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হু এর এক অধিকারীক জানিয়েছেন লকডাউনের বদলে যদি দেশের মানুষকে সচেতন করা যায় তাহলে সেটি আরও বেশি উপযোগী হবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটাতে।

এর পাশাপাশি এই ভাইরাসের দরুন যারা সংক্রমিত হয়েছে সেসব রোগীদের খুঁজে বের করে তাদের পরীক্ষা করানো দরকার আর তা যদি না হয় তাহলে এই সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না। এই মুহূর্তে ভারতে এই সংক্রমণের নিরিক হিসেব করে দেখা গেছে এটি স্টেজ টুতে রয়েছে অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে এই ভাইরাসটি, তবে তৃতীয়টি যে স্টেজ ডি রয়েছে সেটিতে না যাওয়াই ভালো। আর এটিতে না যাওয়ার জন্য সামাজিক স্তরের মেলামেশা বন্ধ করতে হবে।

যার দরুন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির নেওয়া জনতা কার্ফু এবং লকডাউন এর ঘোষণা একদম সঠিক কারণ এদেশে যদি এই ভাইরাস মহামারির আকার ধারণ করে তাহলে সেটিকে ঠেকানো অনেকখানি চাপের হয়ে যাবে কারণ এই ভাইরাস ঠেকাতে নেই পর্যাপ্ত পরিকাঠামো।