শুধুমাত্র একটি অপমান যা বদলে দিয়েছিল টাটা মোটরস ও রতন টাটার জীবন, প্রকাশ্যে এলো সেই ঘটনা

রতন টাটার সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলার নেই। এই মানুষটি যেমন একদিকে নিজের কোম্পানিকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন, তেমন অন্যদিকে এই মানুষটির মানবিকতার নিদর্শন বহু মানুষ পেয়েছে। শুধুমাত্র অর্থের দিক থেকে নয়, একজন ভাল মানুষ হিসেবে তিনি সকলের মনে জায়গা করে রেখেছেন। আজ সারা বিশ্বে টাকার ১০০ টিরও বেশি কোম্পানি রয়েছে। এই কোম্পানি স্টিল থেকে শুরু করে চা, ন্যানো গাড়ি থেকে শুরু করে বিমান, সবকিছু সরবরাহ করে। বর্তমানে আমরা রতন টাটার জীবনের এমন একটি গল্প বলতে চলেছি যা সকলের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হতে চলেছে।

রতন টাটার জীবন উত্থান-পতনে ভরা। ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। রতন টাটার বাবা ছিলেন নভাল টাটা। টাটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জামসেদজী টাটার দত্তক নাতি ছিলেন রতন টাটা। রতন টাটা ১৯৬১ সালে আইবিএম-এর চাকরি প্রত্যাখ্যান করে টাটা গ্রুপের একজন কর্মচারী হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করার পর অবশেষে তিনি ১৯৯১ সাল নাগাদ টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হন। ২০১২ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। টানা ২১ বছর এই কোম্পানিকে পরিশ্রমের দ্বারা শীর্ষে নিয়ে যান তিনি।

এবার বলি তাঁর জীবনের সেই যুদ্ধের কথা যা আমরা অনেকেই জানিনা। ১৯৯৮ সালের কথা, যখন টাটা মোটরস বাজারে প্রথম যাত্রীবাহী গাড়ি ইন্ডিয়া লঞ্চ করেছিল। এটি ছিল রতন টাটার একটি স্বপ্নের প্রকল্প। কিন্তু গাড়িটি সেইভাবে বাজারে সাড়া দিতে পারেনি যতটা রতন টাটা ভেবেছিলেন। কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি এই লোকসানের কথা ভেবে রতন টাটাকে কোম্পানি বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দেন। রতন টাটাকে না চাইলেও এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয় এবং আমেরিকার একটি কোম্পানির কাছে নিজের কোম্পানি বিক্রি করে দিতে যান তিনি।

ফোর্ড কম্পানির মালিক বিল ফোর্ডের সঙ্গে প্রায় কয়েক ঘণ্টা বৈঠক চলে রতন টাটার। বৈঠক চলাকালীন বিল ফোর্ড রতন টাটাকে বলেন, “একটি কোম্পানি সম্পর্কে কিছু না জেনে কেন এত টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এই কোম্পানি কিনে আমরা আপনার ওপর উপকার করছি”। শব্দগুলি রতন টাটাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে এবং রতন টাটা সেই চুক্তি বাতিল করে দিয়ে চলে আসেন।

বিলবোর্ডের ওই অপমানজনক বাক্য রতন টাটাকে ভীষণভাবে অস্থির করে তুলেছিল এবং রতন টাটা অবশেষে সিদ্ধান্ত নেন এই সংস্থাটি তিনি কারোর কাছে বিক্রি করবেন না। এই সংস্থাকে কিভাবে উচ্চতায় নিয়ে যেতে হয় তার জন্য তিনি চেষ্টা করবেন।এরপর তিনি একটি গবেষণা দল তৈরি করে বাজারে অনুসন্ধান শুরু করেন কোম্পানিকে তৈরি করার জন্য। বাকিটা ইতিহাস।

আজ টাটা ইন্ডিকার কথা আমরা সকলে জানি। এই ঘটনার পরই ফোর্ড কোম্পানির পতন শুরু হয়। ২০০৮ সাল নাগাদ রতন টাটা বিল ফোর্ডকে তাঁর কোম্পানির বিলাসবহুল গাড়ি ল্যান্ড রোভার এবং জাগুয়ার নির্মাতা জেএলআর কেনার প্রস্তাব দেন, যা তিনি গ্রহণ করেন। ২.৩ ডলারের চুক্তি ঠিক হয় এবং সেই বৈঠকে বিল ফোর্ড আরো একটি কথা বলেছিলেন যা প্রথম কথার পুনরাবৃত্তি ছিল কিন্তু ছিল কিছুটা অন্যরকম। বৈঠকে বিল ফোর্ড বলেন, “আপনি আমাদের কোম্পানি কিনে আমাদের বিশাল উপকার করলেন”।উল্লেখ্য, রতন টাটা চাইলেই শব্দের দ্বারা অপমান করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তাঁর কাজের দ্বারা অপমান করলেন বিল বোর্ডের সেই অপমানজনক শব্দের।