বাড়তে চলেছে Vodafone -এর ট্যারিফ ! আকাশছোঁয়া দাম হতে চলেছে ইন্টারনেটের…

প্রতিযোগিতা কতটা বেড়েছে তা আমরা সবাই খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছি। টেলিকম কোম্পানি গুলি ভারতের মাটিতে একে অপরকে একচুল জায়গাও ছাড়তে নারাজ। দেশের অন্যান্য টেলিকম সেক্টরের তুলনায় জিও যে এগিয়ে রয়েছে তা বলা বাঞ্ছনীয়। এই টেলিকম ময়দানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া কে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে জিও। তবে যেমনটা আমরা জানি বর্তমানে এখন টেলিকম দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে ভোডাফোন আইডিয়া সংস্থা।

কারণ কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জানতে পারা গেছে ভোডাফোন আইডিয়া সংস্থাকে তাদের এজিআর পেমেন্ট হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে দিতে হবে 50 হাজার কোটি টাকা।তারই সাথে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে একথাও জানানো হয়েছে যদি অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারকে ভোডাফোন আইডিয়া সংস্থার তরফ থেকে এই টাকা না দেওয়া হয় তাহলে তাদের উপর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাই একথা এখন বলাবাহুল্য যদি বর্তমানে এই দুই সংস্থাকে টিকে থাকতে হয় তাহলে তাদের কাছে এই পরিমাণ টাকা জোগাড় করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এখন যে খবরটি বেরিয়ে আসছে সেটি গ্রাহকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে কারণ কেন্দ্রের এই ঋণ মেটাতে এবং দেশে তাদের ব্যবসা কে ধরে রাখতে গ্রাহকদের উপর কোপ বসাতে চলেছে এই দুই টেলিকম সংস্থা।ভোডাফোন আইডিয়া তরফ থেকে এখন সরকারের কাছে দাবী করে জানানো হয়েছে যে মোবাইল ডাটা জন্য প্রতি জিবি 35 টাকা করে শুল্ক নির্ধারণ করা হবে যা বর্তমান মূল্যের তুলনায় 7 থেকে 8 গুণ বেশি, এবং এ বছরের এপ্রিল মাস থেকে মাসিক চার্জ সহ প্রতি মিনিটে ছয় পয়সা করে কলের জন্য কাটা হবে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে এক সহকারী অধিকারিক জানান নিজেদের বাঁচানোর জন্য ভোডাফোন- আইডিয়ার সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি দাবা করেছে আর এখন বর্তমানের সংস্থাটি চাইছে এপ্রিল 2020 থেকে তাদের ন্যূনতম ডাটার দামে প্রতি জিবি 35 টাকা এবং ন্যূনতম মাসিক সংযোগ চার্জ 50 টাকা নির্ধারণ করা উচিত।তবে এই দাবি পূরণ করতে সমস্যা দেখা মিলতে পারে কারণ বর্তমানে যা মোবাইল ইন্টারনেটের দাম তা প্রতি জিবি দরে পড়ে 4 থেকে 5 টাকা করে।


তবে শুধু ডাটার ক্ষেত্রেই নয় ভোডাফোন আইডিয়া সংস্থার তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে তারা চাইছেন যে আউটগোয়িং কল এর ক্ষেত্র প্রতি মিনিটের জন্য 6 পয়সা হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করা হোক। যদিও এখনো পর্যন্ত এই গোটা বিষয়টিকে নিয়ে ভোডাফোন আইডিয়া তরফ থেকে কোন প্রকার বিবৃতি জারি করা হয়নি তাছাড়া এই দুই সংস্থা থেকেও কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে এক্ষেত্রে শুধু ভোডাফোন আইডিয়া একা নয়, ভারতী এয়ারটেল, টাটা টেলিসার্ভিসেস সহ দেশের বিভিন্ন টেলিকম সংস্থাকে এজিআর হিসেবে 1 লক্ষ 47 হাজার কোটি টাকার বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

আর এর মধ্যে লাইসেন্স ফি বাবদ 92 হাজার 642 কোটি টাকা এবং স্পেকট্রাম ফি বাবদ 55 হাজার 54 কোটি টাকা রয়েছে।এ বিষয়ে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ আগামী 27 মার্চ এর পরবর্তী শুনানির আগেই যাতে টেলিকম দপ্তরের কাছে সেই বাকি থাকা অর্থ মিটিয়ে দিতে হবে সেসব টেলিকম সংস্থাগুলিকে।এক্ষেত্রে যদি তারা এই নির্দেশ না মানে তাহলে তাদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সহ শীর্ষ কর্তাদের পরবর্তী শুনানিতে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।