আগামী জুলাই মাসের ৯ তারিখ থেকে কার্যকর হবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন,ঘোষণা মোদী সরকারের

এখনই দেশজুড়ে চালু হচ্ছে না NRC। এমনকি  NRC এর সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব আইন CAA ও এখনই লাগু হবে না জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের তরফে জানা যাচ্ছে,  CAA কার্যকর করার সময়সীমা আরও ৩ মাস বাড়ানো হয়েছে।

 

করোনা মহামারীর জন্য CAA আর NRC প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। কিন্তু ভ্যাকসিন আসার পর পুনরায় NRC এর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জল্পনা চলছিল৷ তবে আপাতত কেন্দ্র এই দুটি আইন নিয়ে এখনই কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইছে না। অনেকের মতে দেশের ৫ টি রাজ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভোট হতে চলেছে। তাই কেন্দ্র এখন CAA NRC নিয়ে কিছু ভাবছে না৷

CAA চালু করার জন্য যেই নিয়ম তৈরি করতে হয়, তা এখনো প্রস্তুত করে উঠতে পারেনি কেন্দ্র সরকার।  CAA কার্যকর করার সময়সীমা ছিল  ৯ এপ্রিল, বর্তমানে এই সময় সীমা  বাড়িয়ে ৯ জুলাই করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে কেন্দ্র সরকারের তরফে৷

প্রসঙ্গত, সংসদের দুই সদনেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন।  এই আইন পাশ হওয়ার পর থেকে গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল এক বছর আগে। রাজধানী দিল্লীতে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল চরম হাঙ্গামা।  শাহিনবাগে CAA এর বিরুদ্ধে মাসের পর মাস রাস্তা অবরোধ করে হয়েছিল ধরনায় বসেছিল মানুষজন। কিন্তু তাতেও  কেন্দ্র সিদ্ধান্ত বদল করেনি৷

এবার রাস্তা থেকে পুরোনো গাড়ি কমানোর উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করল কেন্দ্র সরকার

CAA অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুরা অত্যাচারিত হয়ে ভারতে এলে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই তিন দেশের হিন্দু, শিখ, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, পারসি, জৈন ধর্মের মানুষেরা ভারতের নাগরিকতা পাবে CAA এর মাধ্যমে। কিন্তু এই তালিকায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কথা না বলায় কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিভেদের রাজনীতি করার অভিযোগ করেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এরপর দিল্লী সহ গোটা ভারত জুড়ে CAA আর NRC এর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। যদিও এরপরেও কেন্দ্র সরকার পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিল যে, এই আইন প্রত্যাহার করা হবে না।

কিন্তু এই আইন চালু করতে হলে একটি রুল ফ্রেম তৈরি করতে হয়। দেশে CAA কীভাবে লাগু হবে, সেই রুপরেখা থাকে নিয়মাবলীতে। এই নিয়ম তৈরি করার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি এখনো রুল তৈরি করে উঠতে পারেনি। তাই আপাতত কার্যকর হচ্ছে না নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন।