এবার বাড়িতে বসেই করতে পারবেন করোনা টেস্ট যেতে হবে না কোন হসপিটালে…

করানো ভাইরাস সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এতদিন পর্যন্ত হাসপাতালে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করাতে হতো মানুষদের। কিন্তু এবার থেকে আইসিএমআরের অনুমোদন যুক্ত একটি স্পেশাল কিট বাজারে আনা হল।এতে মানুষেরা বাড়িতে বসেই বুঝতে পারবেন তিনি করোনা আক্রান্ত না ইনফ্লুয়েঞ্জার শিকার হয়েছেন।

মুখের ভেতর থেকে কয়েক ফোঁটা লালা রস বের করে অথবা নাসিকানিঃসৃত সর্দি সামান্য একটুকু বের করে সেই টেস্ট কিট এর উপর দিতে হবে। এর পরেই আপনি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কীনা তা বলে দেবে ওই টেস্ট কিট। এই টেস্ট কিটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোভিড- 19 অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট’। এটি উৎপাদন করার জন্য ইতিমধ্যে ছাড় পেয়েছে আটটি দেশীয় সংস্থা। ইতিমধ্যেই কয়েকটি টেস্ট কিট উৎপাদন করার পর তার গুণগত মান যাচাই করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। সরকারের নির্দেশ অনুসারে যে গুণগত মান ঠিক করা হয়েছে তা অনুসরণ করে চললেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এই কিট তৈরি করার অনুমতি পাওয়া যাবে।

তবে এই সমস্ত কিছু ঠিক করবে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত শর্ত নিয়ম যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে আর এক মাসের মধ্যে এই টেস্ট কিট বাজারে বিক্রি হবে। ইতিমধ্যেই প্রায় 10,000 এই ধরনের টেস্ট কিট কিনেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এবং সেগুলির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এখন। যদি সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে স্বাস্থ্য দপ্তরে তরফ থেকে অনুমতি পাওয়া যাবে এই কিট বাজারে বিক্রি করার জন্য। তবে এই নতুন কিট এর গুণগত মান বজায় রাখতে – 40 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়াও কোনো জায়গায় কত এই অ্যান্টিজেন কিট বিক্রি হবে তা ঠিক করে দেবে স্বাস্থ্য দপ্তর। এছাড়াও এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডক্টর অজয় চক্রবর্তী জানান,’ কিছু সংস্থাকে এই কিট বিক্রি করার জন্য অনুমতি দেওয়া হলে এখন কম্পিটিশন হবে। এর ফলে দাম কম হবে আর গুণগত মান ঠিক থাকবে।’ এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরের আরেক কর্মী জানিয়েছেন,’ এই সমস্ত কিছুর পেছনে স্বাস্থ্য দপ্তরে কড়া নজরদারি থাকবে। ওই টেস্ট কিট এর গুনগত মানের উপর যদি কারচুপি করা হয় তাহলে এই সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

RTPCR পদ্ধতিকে এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাস পরীক্ষার গোল্ডেন স্ট্যান্ডার্ড বলে ধরা হয়। এছাড়াও কয়েকটি রাজ্যে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে ঘরোয়া ভাবে পরীক্ষা করা যাচ্ছে। এক স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানান,’ এখন করোনার এক একটা টেস্ট কিট এর দাম প্রায় 450 টাকার কাছাকাছি। তবে এরপর কিছুটা হলেও দাম কমবে বলে জানিয়েছেন তিনি।’ স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, আইসিএমআর এর গাইডলাইন মান্য করে বর্তমানের সমস্ত মেডিকেল কলেজ এবং সরকারি হাসপাতালে এগুলি পাঠাতে হবে।

এরপর কিট গুলি কনটেইনমেন্ট জোনে ব্যবহার করা হবে। এর পরেই বোঝা যাবে কিট গুলির গুণগত মান কেমন। করোনার টেস্ট কিট তৈরি করেছে দিল্লির এক সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আইসিএমআর এর গাইডলাইন মেনে করোনার টেস্ট কিট তৈরি করার পর তা পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু সরকারি হাসপাতাল এবং ল্যাবরেটরীতে সরবরাহ করা হয়। সুতরাং রাজ্য যদি চাই তাহলে এমন তাড়াতাড়ির টেস্ট কিটও তৈরি করা হবে। এই সংস্থার তরফ থেকে আরও জানিয়েছে, এর ফলে টেস্ট কিট এর দাম কমে 250 টাকা বা তার মধ্যে থাকবে।