আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা! যা করে দেখাতে পারেনি আমেরিকা ব্রিটেন করে দেখাবে ভারত, আসছে হাইড্রোজেন ট্রেন

বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। ভূগোল বই থেকে আমাদের জীবনে, সর্বত্র এর প্রভাব বর্তমান। সারা বিশ্বে জলবায়ু সহ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে গেছে এই বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে। এই বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আর্বটাই বিভিন্ন ক্লাইমেট চেঞ্জ বৈঠকে দেশগুলি শপথ নিচ্ছে কার্বন জিরো করার। মোদি সরকারের নেতৃত্বে এবার সেই পথে হাঁটতে চলেছে ভারতবর্ষ। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে তৈরি হতে চলেছে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।

ভারতীয় রেল গ্রীন এনার্জিকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে এবার হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন তৈরি করার দিকে নজর দিচ্ছে। ভারতের এই নয়া পদক্ষেপ সম্বন্ধে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ভারত এবার নিজেই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন তৈরি করতে চলেছে যা আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে। এই নতুন ট্রেনে জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন, বিশেষত গ্রীন হাইড্রোজেন ব্যবহার করায় আরো একধাপ ভারত এগিয়ে গেল শূন্য কার্বন লক্ষ্যের দিকে।

বর্তমানে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন শুধু রয়েছে জার্মানিতে। চলতি বছর জার্মানি বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করেছে। ফরাসি কোম্পানি alstom প্রায় ৯২ মিলিয়ন ডলার খরচ করে হাইড্রোজেন চালিত ১৪ টি ট্রেন তৈরি করেছে জার্মানিতে। এবার এই ক্ষেত্রে এগোতে চলেছে ভারতবর্ষ। গতমাসে পুনেতে অবস্থিত KPIT- CSIR স্বদেশী প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন ফুয়েল বাস তৈরী করে সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।

ইতিমধ্যেই ভারতীয় রেল বেশিরভাগ লাইনে ইলেকট্রফিকেশন সম্পন্ন করেছে। ইলেকট্রিক চালিত লোকোমোটিভ দ্বারা সমস্ত ডিজেল ইঞ্জিনকে পরিবর্তন করা হয়েছে। কার্বন জিরোর লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে রেল। রেল কর্তৃপক্ষ এবার রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা ফাঁকা জমিতে বসাবে সোলার প্ল্যান্ট।

আমরা জানি দেশের সিংহভাগ ট্রেন বিদ্যুতে চলে। একদিকে যেমন বিদ্যুতের উৎসকে এবার বদলে দিয়ে সোলার প্ল্যান্ট লাগাচ্ছে রেল, অন্যদিকে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গ্রীন হাইড্রোজেন নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও এই স্বপ্ন এত তাড়াতাড়ি বাস্তবায়িত হবে তা কেউ কোনদিন ভাবতে পারেনি।