এবার প্লাস্টিক থেকে তৈরি সোনা! বিশ্বকে তাক লাগানো সফল আবিষ্কার সুইস বিজ্ঞানীদের..

পরিবেশে প্লাস্টিকের ফলে যেসব দূষণ ঘটছে তার কথা জানেন না এমন কোন ব্যক্তি নেই বললেই চলে তবে যে প্লাস্টিক ছাড়া আমাদের জীবন অচল হয়ে পড়ে এ কোথাও কারও জানতে বাকি নেই। যার ফলে সরকারের তরফ থেকে বহুবার প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও এমন বহু মানুষ আছেন যারা বহু চেষ্টা করেও এই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেন না। তাই একথা এখন আমরা বলতে পারি যে প্লাস্টিক ছাড়া এক পাও চলতে পারা যাবে না।

তবে প্লাস্টিকের বহু ব্যবহার থাকলেও একথা কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না যে এবার আপনার হাতের প্লাস্টিকের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে সোনা, তাও 18 ক্যারাটের। অবাক করে দেওয়ার মতো ঘটনা হলেও এটাই সত্যি। তাই এখন প্রশ্ন আছে এবার কি তাহলে সেটাকে আবর্জনা বলে ফেলে দেবেন নাকি যত্নসহকারে জমিয়ে রাখবেন আপনার কাছে। কয়েক মাস আগে এ কথা হয়তো আপনারা শুনে থাকবেন যেখানে ভারতীয় সেনার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্লাস্টিকের মাধ্যমে রাস্তা তৈরি করে চমকে দিয়েছিল দেশের জনগণকে।

আর এবার যে খবরটি বেরিয়ে আসছে সেখানে শোনা যাচ্ছে এই প্লাস্টিকের মাধ্যমেই এবার তাক লাগিয়ে দিলো সুইস বিজ্ঞানীরা, এই বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক ম্যাট্রিক্সের মিশন ব্যবহার করে 18 ক্যারেটের সোনা তৈরি করেছেন বলে দাবি তাদের। একথা সাইন্স পত্রিকায় প্রকাশিত এক জার্নাল এর মাধ্যমে জানানো হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা রাফায়েল মেজেঙ্গা জানিয়েছেন নতুন সোনার ওজন এই প্রচলিত 18 ক্যারেটের সোনার চেয়ে প্রায় 10 গুণ কম।

তবে ওজন হালকা হলেও এটি একেবারে খাঁটি 18 ক্যারটের সোনা। এই সোনা উজ্জ্বলতা খনিজ সোনার মতোই, এরই সাথে এটিকে পালিশ করা তুলনামূলক ভাবে সহজ। প্রচলিত মিশন গুলিতে তিন-চতুর্থাংশ সোনার সঙ্গে এক-চতুর্থাংশ তামা মেশানো থাকে। যার ফলে বৌদি ঘন সেন্টিমিটার এর সোনার ওজন কম হয় 15 গ্রাম। তবে এক্ষেত্রে প্লাস্টিক থেকে তৈরি সোনার ওজন প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে মাত্র 7 গ্রাম।

তবে এরই সাথে আরো বলে রাখি যে এটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে পলিমার ল্যাটেক্স ও প্রোটিন ফাইবার।এক্ষেত্রে প্রথমে সোনার ন্যানোক্রিস্টালের পাতলা একটি ডিস্ক রাখা হয় যেটিকে জলের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তারপর অ্য়ালকোহলের মধ্য দিয়ে নিয়ে গিয়ে তৈরী করা হয় একটি জেল। সেই জেলকে উচ্চ চাপের কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের মধ্য নিয়ে গেলেই তৈরী হয়ে যায় এই নতুন সোনা।

আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, পৃথিবীতে প্রায় 9.2 বিলিয়ন টন প্লাস্টিক আবর্জনা জমে আছে। আর বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় 7.6 বিলিয়ন। অর্থাৎ, প্রতিটি মানুষের ভাগে প্রায় 1.2 টন করে প্লাস্টিক আবর্জনা রয়েছে। এই সব প্লাস্টিক আবর্জনাকে যদি এভাবে সোনায় পাল্টে ফেলা যায়, তাহলে কী হতে পারে ভেবে দেখেছেন?

Related Articles

Back to top button