Skip to content

শুধু গোটা বিশ্বেই নয়, ভারতেও রয়েছে ৭ টি আশ্চর্য যার নাম হয়তো আপনিও আগে শোনেননি

মাদার ডে, ফাদার্স ডে অনেক হলো, আজ কথা বলব পর্যটন দিবস নিয়ে। আপনি কি জানেন প্রতি বছর ২৫ জানুয়ারি সারা ভারত জুড়ে পালন করা হয় জাতীয় পর্যটন দিবস। এই দিন ভারতবর্ষের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র দেখতে আসেন বিশ্বের পর্যটনরা। এই দিন ভারতের অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে থাকা বিস্ময়কর দ্রষ্টব্য স্থান দেখতে আসেন বিদেশি পর্যটকরা। আজ সেই দ্রষ্টব্য স্থানের মধ্যে মাত্র সাতটি স্থানের কথা আজ আমরা বলবো, যেগুলি সারা বিশ্ব বিখ্যাত।

তাজমহল: মুঘল আমলে তৈরি এই বিস্ময়কর ভাস্কর্য সারা বিশ্বের মধ্যে সপ্তম আশ্চর্যের একটি। আমরা ভারতীয়রা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি এটি আমাদের দিল্লিতে অবস্থিত। মুঘল সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মুমতাজের মৃত্যুর পর মুমতাজের সমাধির উপর এটি তৈরি করেন। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাজমহল তৈরি করার পর প্রত্যেক শিল্পীদের বুড়ো আঙুল বাদ দিয়ে দেন যাতে এই ভাস্কর্য আর দ্বিতীয়বার কেউ তৈরি না করতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এটি ভারতীয় তথা সারা বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভীষণ আকর্ষণীয় একটি দ্রষ্টব্য স্থান।

স্বর্ণমন্দির: পাঞ্জাবের স্বর্ণ মন্দির শিখ সম্প্রদায়ের প্রত্যেক মানুষের কাছে একটি পবিত্র উপাসনালয়। গুরু নানকের ধর্মালম্বি প্রত্যেক শিখ ব্যক্তি এই স্বর্ণ মন্দিরে এসে প্রার্থনা করেন। ১৫৮৫ সাল থেকে ১৬০৪ সালের মধ্যে এটি তৈরি করা হয়েছিল। ভারতের বিখ্যাত গুরুদ্বার গুলির মধ্যে এটি অন্যতম এবং এটি তৈরি করেছিলেন পঞ্চম শিখ গুরু।

হাম্পি মন্দির: কর্নাটকের বিজয়নগরের এই ছোট্ট গ্রাম হাম্পিকে বলা হয় মন্দিরের শহর। এই স্থানে প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের এক বিশাল সম্ভার পেয়ে যাবেন আপনি। এই শহরে প্রচুর মন্দির এবং প্রাসাদের অবকাঠামো রয়েছে। ১৯৮৬ সালে এই প্রাচীন শহরটিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই শহর নিজেই একটি বিস্ময়কর শহর এবং পর্যটকদের মধ্যে এই শহর নিয়ে কৌতুহল আজও বর্তমান।

খাজুরাহো মন্দির: মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলায় অবস্থিত জৈন এবং হিন্দু মন্দির গুলির সমাবেশে তৈরি এই খাজুরাহো মন্দিরগুলি। ১২ শতকে এই স্থানে ছিল মাত্র ৮৫ টি মন্দির, যার মধ্যে ১৩ শতকে কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখন মাত্র ২০ টি মন্দির অবশিষ্ট রয়েছে। এই মন্দিরগুলি দেওয়ালে খোদাই করা কারুকার্য ইতিহাসের পাতায় আপনি দেখতে পাবেন বারবার।

গোমতেশ্বর মূর্তি: এই মন্দিরটি পাহাড়ের চূড়ায় ৩৩৪৬ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে ৬০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি গোমতেশ্বরের বিশাল মূর্তি রয়েছে। এই মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে ৬০০টি সিঁড়ি অতিক্রম করতে হবে। প্রতিমাসে জল দুধ এবং চন্দন কাঠ দিয়ে মূর্তিটিকে অভিষেক করানো হয়।

সূর্য মন্দির কোনারক: এই মন্দিরটি এতটাই রহস্যে পরিপূর্ণ যে এই মন্দিরটির টানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসেন উড়িষ্যার পুরীতে। এই মন্দিরটি ভগবান সূর্যদেবকে উৎসর্গ করে তৈরি করা হয়েছিল। ১২৫৫ খ্রিস্টাব্দে তো চন্দ্রভাগা নদীর তীরে গঙ্গা রাজবংশের শাসক রাজা নরসিংহ দেব এটি নির্মাণ করেছিলেন। এই মন্দিরের ছায়া দেখে প্রাচীনকালে সময় নির্ধারণ করা হতো। মন্দিরটির মাথায় বিরাট চুম্বক ছিল যা সমুদ্রে ভেসে থাকা সাগরকেই আকর্ষণ করত তাই পরবর্তী সময়ে বণিকরা এই মন্দিরের মাথায় থাকা বিরাট চুম্বক ভেঙে দিয়ে চলে যায়।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রাচীনকালে বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থী আসতেন আমাদের ভারতবর্ষে পড়াশোনা করার জন্য। ভারতের বিখ্যাত কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম হলো নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। বিহার থেকে ৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আজও আমাদের ইতিহাসের স্মৃতি বহন করে রয়েছে। গুপ্ত আমলে গুপ্ত শাসক কুমার গুপ্ত এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিন্তু ১১৯৩ সালে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। আজ এটি শুধুমাত্রই একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে যা দেখে আমরা ইতিহাসের কিছু স্মৃতি রোমন্থন করার চেষ্টা করি।