মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দিদিকে বলো ‘ ও ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের ‘প্রতীচী’

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যক আসন নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচন জয়ের অন্যতম ফ্যাক্টর ছিল তাদের দুটি জনসেবামূলক কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’ ও ‘দুয়ারে সরকার’। এবার মুখ্যমন্ত্রীর এই দুটি জনসেবামূলক কর্মসূচির ভুয়সী প্রশংসা শোনা গেল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ‘প্রতীচী’ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে। মূলত এই ট্রাস্ট শিক্ষার প্রসার ও দারিদ্র্য দূরীকরণের কাজ করে থাকে।

সম্প্রতি এই ট্রাস্টের এক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যেখানে জানা গেছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অসন্তোষ অভিযোগ প্রায় ৯৫ শতাংশ সফলভাবে সমাধান করতে পেরেছে রাজ্য সরকারের এই দুটি জনসেবামূলক প্রকল্প। অমর্ত্য সেনের ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ‘দিদিকে বলো’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের অভাব অভিযোগ জানিয়েছেন এবং খুব তাড়াতাড়ি তার সমাধানও করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।

মোটামুটি প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি অভিযোগ ইতিমধ্যেই সমাধান হয়ে গেছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর আরেকটি জনসেবামূলক প্রকল্প ‘দুয়ারে সরকারের’ মাধ্যমে প্রায় পৌনে তিন কোটি মানুষ উপকৃত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে প্রতীচীর রিপোর্টে। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শটি এই দুই জনসেবামূলক প্রকল্প চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রথমে চালু হয় দিদিকে বল কর্মসূচি যেখানে একটি নাম্বার দেওয়া হয় যার মাধ্যমে গ্রামের সকল অভাব অভিযোগ জানালেই প্রয়োজনমতো সমাধান করে দেওয়া হতো মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের পক্ষ থেকে। এর কিছুদিন পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পঞ্চায়েতে ক্যাম্প বসানো শুরু হয় দেওয়া হয় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা নাম দেওয়া হয় দুয়ারে সরকার ক্যাম্প।

বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে গিয়ে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে বাংলার মা বোনদের কথা শোনা গেছিল। যদিও নির্বাচনে জয়লাভের পর সেই মা বোনদের ই জয়ের পুরো ক্রেডিট দিয়েছিলেন তিনি। প্রতীচীর রিপোর্ট বলছে রাজ্যে পুরুষের তুলনায় মহিলারাই এগিয়ে। যেখানে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, বিধবা ভাতার মতো মহিলা প্রকল্প স্কিমগুলি রাজ্যে ব্যাপকহারে সাড়া দিয়েছে নির্বাচনে। অন্যদিকে রাজ্যের এই দুই জনসেবামূলক প্রকল্পের রিপোর্টের শিরোনাম হিসেবে প্রতীচী ট্রাস্ট নাম দিয়েছে ‘একশন অরিয়েন্টেড গভর্নেন্স’।