কোনও চাকরি আর স্থায়ী নয়! কেন্দ্রের তরফ থেকে আসতে চলেছে নতুন বিল, সরকারি বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই‌ করা হবে লাগু…

চাকরি পাওয়া এদেশে একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে। কিন্তু এই চাকরি নিয়ে এবার সরকার নয়া নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে। সরকারি চাকরি হোক বা বেসরকারি চাকরি হোক আপনার স্থায়ী চাকরি করার স্বপ্ন উঠে যেতে পারে। নয়া শ্রমবিধিতে এমনি বন্দোবস্ত করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার।নয়া এই নিয়োগবিধিতে স্থায়ী চাকরির বদলে চুক্তিভিত্তিক চাকরি এর উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।

আর তার ফলে কর্মী ছাঁটাই করার জন্য সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। চলতি অধিবেশনে সংসদে এই নয়া বিধি পাস হতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে। জানা গিয়েছে অন্তত 44 টি শ্রমো আইন বিলোপ করে মোট চারটি শ্রমনীতি আনতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। একই সঙ্গে মজুরি সংক্রান্ত আইন ও পরিবর্তন হতে পারে। এবং স্থায়ী চাকরির পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক চাকরি পথ সুগম করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।

সব মিলিয়ে একটি কথাই বলা যেতে পারে যে সরকারি ক্ষেত্রে পাকাপাকিভাবে উঠে যাচ্ছে স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা। এর সঙ্গে আরও জানা গিয়েছে, শিল্পে কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের কাজের অধিকার সংক্রান্ত শ্রম আইনে বদল ঘটাতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট 1926, ইন্ডায়িল অ্যাক্ট 1946 এবং ইন্ডায়িল ডিসপুট অ্যাক্ট 1947 পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

নতুন শ্রমকোডে স্থায়ী চাকরি পরিবর্তে তাই মেয়াদে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হতে পারে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই খসড়া প্রকাশ করে দিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়ার পর সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করে দিয়েছে অনেকে। কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে এই নয়া বিল চালু করা হলে দেশে কর্মসংস্থানের সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়বে বলে অনেকেই মনে করছেন। কারণ স্থায়ী চাকরি করার জন্য কর্মীদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় তাতে সেটি সরকারি চাকরি হোক বা বেসরকারি। এবার থেকে যদি সরকারি চাকরিতে স্থায়ী ব্যবস্থা উঠে যায় তাহলে অর্থনৈতিকভাবে চূড়ান্ত সঙ্কটে পড়তে পারে দেশের সাধারণ মানুষ। তবে আদৌ কি এই বিল পাস হবে কিনা সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশের কোটি কোটি চাকরিপ্রার্থী।