বাবার আচার তৈরির সখকে মেয়ে তৈরি করেছে দেশব্যাপী ব্যবসাতে, বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকা

“ছোট্ট ছোট্ট পায়ে ঠিক পৌঁছে যাবো” – ঠিক তাই , আজ দেশে এরকম কত ছোট কোম্পানী আছে যারা একসময় ছোট্ট পায়ে পথ চলা শুরু করেছিল কিন্তু আজ নিজেদের কাজের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে সফল ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এরকম এক কাহিনীর স্রষ্টা দিল্লির বাসিন্দা নিহারিকা ভার্গব, যিনি নিজের বাবার আচার তৈরির সখকে বদলে দিল এক দেশব্যাপী সফল ব্যবসাতে যার টার্নওভার বছরে এখন ১ কোটি।

নিহারিকা লন্ডন থেকে মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইনোভেশনের ওপর মাস্টার্স করে ২০১৫ সালে দেশে ফেরেন এবং গুরুগ্রামের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করতে শুরু করেন, কিন্তু নিজে কিছু করে দেখানোর ইচ্ছে ও নিজের একটি ব্যাবসা তৈরি করার প্রবল তাগিদে সেই চাকরি তিনি ছেড়ে দেন।চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বাড়িতে বসে থাকা কালীন বাবার আচার তৈরির সখ তাঁকে একটি নতুন ব্যবসা তৈরির জন্যে অনুপ্রেরণা যোগায় এবং তিনি এই আচারের মার্কেটিংয়ে বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন বাবার এই সখকে তিনি ব্যবসার রূপ দেবেন।

শুরুর সময় বাবার তৈরি আচার বিভিন্ন প্রদর্শনীতে নিয়ে যেতে শুরু করেন যখন দেখেন সেখান থেকে তাদের আচারের চাহিদা বাড়ছে সেই অবস্থাতে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে স্থানীয় মার্কেটে নিজের আচারকে ছড়িয়ে দেন। এইভাবে তাঁর এই আচারের ব্যবসা এগোতে শুরু করে যা পরবর্তীতে নিহারিকা মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহুতে নিজেদের জমির ওপর তৈরি আচারের কারখানাতে আচার তৈরি শুরু করেন যা থেকে ওনার প্রচুর লাভ হলো । এরপর ২০১৭ সালে তিনি গুরগ্রামে “দি ফার্ম” নামক নিজের একটি কোম্পানী খোলেন এবং তিন বছর পরে এই কোম্পানির বছরে টার্নওভার দাড়ায় ১কোটি।

ভার্গবের কোম্পানীতে ৫০ রকমের আচার তৈরি হয় এবং সেখানে ১০-২০ জন কর্মী কাজ করে যার মধ্যে ১০ জন মহিলা। এই ঘটনা আরো অনেক নীহারিকার কাছে অনুপ্রেরণা যোগাবে যারা নিজের প্রচেষ্টা ও বুদ্ধির সাথে অনুপ্রেরণার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চায় ও সাফল্য পেতে চায়।