কেন্দ্রের নয়া পদক্ষেপ ! ভারতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে LIC-তেও এবার আসতে চলেছে বিদেশি বিনিয়োগ

রাষ্ট্রায়ত্ত ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া আগেই শুরু করেছিল কেন্দ্র। এবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা জীবন বিমা নিগমে ও বিদেশি লগ্নিকরণ এর কথা ভাবছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে কেন্দ্রের আর্থিক পরিষেবা বিভাগ এবং লগ্নি ও সরকারি সম্পত্তি পরিচালনাদপ্তরের সঙ্গে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য এলআইসি যখন বাজারে প্রথমবার শেয়ার ছেড়ে টাকা তুলবে , তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনেও অংশীদারি কেনার সুযোগ খুলে দেওয়া।

চলতি বছরেই বিমায় প্রত্যক্ষ বিদেশী লগ্নির, এফ ডি আই এর সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ৭৪ শতাংশ করেছে মোদি সরকার। কেন্দ্র ভারতীয় জীবন বিমা নিগমে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে অনুমোদন দিতে পারে। সেক্ষেত্রে একটি বিদেশী সংস্থা কে বিমা সংস্থাটির একটি মোটা অংশীদারিত্ব কেনায় ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে আধিকারিক টি জানিয়েছেন। LIC-র বিলগ্নিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েছে সরকার।LIC

যেকোনো কৌশলগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের অংক কত টাকা স্থির হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। যদিও এক বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বেসরকারীকরণ এর ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

এভাবে বীমা সংস্থাটিতে রাখা সাধারন মানুষের বিপুল পুঁজিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বিরোধীরা। এই অবস্থায় বিদেশী সংস্থার হাতে অংশীদারি তুলে দেওয়ার পথ তৈরি হলে সেই ঝুঁকি আরো বাড়বে কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দেশে ২৫ টি জীবন বিমা সংস্থার মধ্যে একমাত্র এলআইসি ই শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত। যার দখলে জীবনবিমা বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ।LIC

এসবিআই লাইফ এর প্রাক্তন এম ডি অতনু সেন বলেন,” বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্য কে স্বাগত। তবে এলআইসির সিংহভাগ শেয়ার ও সংস্থা পরিচালনার রাশ কেন্দ্রের হাতেই থাকা জরুরি। বহু সাধারণ মানুষের লগ্নি আছে সংস্থায়। সরকারের ভরসাতেই তারা আস্থা রাখেন এলআইসি তে। সেই আস্থা অটুট রাখার দায়িত্ব সরকারের “।‌ দেশের অন্য বিমা সংস্থার ক্ষেত্রে ৭৪ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ করা গেলেও জীবন বিমা নিগমের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, রাজকোষ ঘাটতি কমাতে কেন্দ্র চলতি অর্থবর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণ মারফত ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা তুলতে চায়।২০২২ সালের মার্চের মধ্যেই বাজেট ঘাটতির পরিমাণ কমানোর লক্ষ নেওয়া হয়েছে। আর সে কারণেই এই বিদেশী লগ্নিকরণ।