দেশনতুন খবরবিশেষলাইফ স্টাইল

কেন্দ্রের তরফে জারি নতুন গাইডলাইন,বাইক চালকদের মানতে হবে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম, না হলে গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা..

ট্রাফিক আইন অমান্য করে বেপরোয়াভাবে মোটরবাইক চালানো প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই পথদুর্ঘটনা সংখ্যাও বাড়ছে আমাদের দেশে।পুলিশ প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে এর আগে নানান ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা সত্ত্বেও বেপরোয়াভাবে মোটরবাইক চালানোর পুরোপুরি ভাবে বন্ধ হয়নি।আবার অনেকেই আইনের ফাঁক গলিয়ে রেহাই পেয়ে যাচ্ছিলেন। তাই এবার বেপরোয়াভাবে মোটরবাইক চালকরা যাতে  কোনভাবেই রেহাই না পায় তার জন্য নয়া আইন নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে 2020 দুই চাকার উইস পলিসি আইন নিয়ে আসা হয়েছে। আর এখানে আগের আইনটিকে সংশোধন করে নতুন ভাবে বানানো হয়েছে।
এই আইনের মধ্যে মোটর বাইক চালকদের কী কী শাস্তি হতে পারে সে সম্পর্কে নীচে দেওয়া হল –

1. মাদক সেবন অবস্থায় গাড়ি চালালে – কোন ব্যক্তি যদি মাদকদ্রব্য সেবন করে গাড়ি চালায় তাহলে আগে 2000 টাকা ফাইন নেওয়া হত। কিন্তু এখন এই নতুন আইনে 20,000 টাকা ফাইন করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক সেবন অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটালে গাড়ির ইন্সুরেন্সের দাবি করলে তা বাতিল করে দেওয়া হবে।

2. ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙলে -অনেকে ট্র্যাফিক সিগন্যাল অমান্য করে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায়। এতে অনেক সময় পথ দুর্ঘটনা ঘটে এবং মারাও যান অনেকে। এবার থেকে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে বা সিগন্যাল অমান্য করলে 1000 টাকা জরিমানা নেওয়া হবে এবং ওই ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

3. ওভার স্পিডিং বা বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালালে –
ওভার স্পিডিং বা খুব জোরে গাড়ি চালালে সেক্ষেত্রে 2000 টাকা ফাইন নেওয়া হবে ওই মোটর বাইক চালকের কাছ থেকে। এছাড়াও ওভার স্পিডিং কারণ জনিত কেউ আহত হলে ইন্সুরেন্স প্রোভাইডার তা বাতিল করতে পারবে।

4. মোটরবাইক চালাতে চালাতে কেউ যদি ফোনে কথা বলেন – মোটরবাইক চালানোর সময় ফোনে কথা বলা খুবই বিপদজনক। এইভাবে এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এবার থেকে কোনো চালক যদি ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালান তাহলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। শুধু তাই নয় মোটর ইন্সুরেন্স এর সুবিধা গুলো বাতিল করা হবে।

5. দুজনের বেশি আরোহী চাপালে – আমরা রাস্তাঘাটে অনেক সময় দেখে থাকি একটি মোটর বাইকে তিনজন চেপে যাচ্ছেন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অপরাধ। একটি মোটরবাইকে সর্বোচ্চ দুজন চাপতে পারে। যদি এই নিয়ম কেউ অমান্য করে তাহলে 2000 টাকা ফাইন দিতে হবে চালককে। এছাড়াও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ইন্সুরেন্স পাওয়া যাবে না।

6. গাড়ি চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার না করলে -মোটরবাইক চালানোর সময় হেলমেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার সময় এই হেলমেট আমাদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। প্রশাসনের তরফ থেকে বারবার বলা সত্ত্বেও অনেকেই হেলমেট না পড়ে গাড়ি চালানো এতে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। তাই যাতে চালকরা হেলমেট পরে বের হন তার জন্য নতুন আইন আনা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে। যদি কোন চালক হেলমেট পরে গাড়ি না চালান তাহলে 1000 টাকা জরিমানা করা হবে। এছাড়াও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ইন্স্যুরেন্স এর সুবিধাগুলি দিতে বাধ্য থাকবে না।

7. ইন্সুরেন্স না থাকলে – এক্ষেত্রে থার্ড পার্টি ভ্যালিড ইন্সুরেন্স এর কভার থাকতে হবে। ইন্সুরেন্স পলিসি ছাড়া বাইক চালালে 2000 টাকা ফাইন নেওয়া হবে। এছাড়াও আর ওই দুর্ঘটনা ঘটলে মোটর ইন্স্যুরেন্সের ক্লেম করতে পারবে না।

Related Articles

Back to top button