খেতে গিয়ে গলায় বিঁধল আড়াই ইঞ্চি লম্বা সূচ! আর তারপর যা হল…

আবারও এক ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের সাফল্য হাসিল করলো বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা। তবে বলে দেওয়া যাক কী এমন অস্ত্রপাচারে সাফল্য হাসিল করলো বাঁকুড়ার সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ,গত 20 জনুয়ারি ফরিদা খাতুন নামে এক বছর পঞ্চাশের মহিলা দুপুরে বাড়িতে পান্তা ভাত খান আর তারপরই ঘটে এই ঘটনা। সেদিন তার পান্তাভাতে মিশে ছিল একটি সূচ, আর অজান্তেই পান্তা ভাত খেতে গিয়ে ভাতের সঙ্গে মিশে থাকা সেই সূচ গিলে ফেলেছিলেন তিনি।

আর সেই সূচটি খাদ্যনালীতে গিয়ে আটকে যায় প্রায় আড়াই ইঞ্চি মাপের ছিল এই সূচ। তারপরই শুরু হয়ে যায় অসহ্য যন্ত্রণা, অবশেষে অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে মিলল সেই যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি পেলেন তিনি। আর তারই সাথে বলে রাখি এরকম এক ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রপাচারে, কার্ডিও থোরোসিক চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতেই সাফল্য হাসিল করলো বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সকেরা।

যখন ফারিদা খাতুন নামে এই মহিলা পান্তা ভাতের মধ্যে মিশে থাকা আড়াই ইঞ্চির লম্বা সূচটি খেয়ে ফেলেন তখন সেটি দাতে বা জিভে আটকায়নি সোজা চলে যায় গলার খাদ্যনালীতে। আর তার পরই শুরু হয়ে যায় অসহ্য যন্ত্রণার। ফারিয়া খাতুন একথা বুঝতে পেরেছিলেন যে গলায় কিছু আটকে গিয়েছে খাবার খাওয়ার দরুন তবে একথা তিনি কল্পনাও করেননি যে প্রায় আড়াই ইঞ্চি মাপের একটি সূচ আটকে গেছে তার খাদ্য নালীতে।

শুধু তিনি বলে নয় তার পরিবারের কেউই ভাবতে পারিনি এরকম ও হতে পারে বলে। তবে কিছুক্ষণ পর যন্ত্রণা আরও বাড়তে থাকে এমনকি যন্ত্রণার চোটে কিছুক্ষণ পর অজ্ঞানও হয়ে যান তিনি। তারপর তার পরিবারের লোক দ্রুত তাকে বিষ্ণুপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে এক্সেল এর মাধ্যমে জানতে পারা যান সেখানেই তারা এক্স-রের মাধ্যমে জানতে পারেন রোগীর গলার খাদ্যনালীতে আটকে রয়েছে একটি সূচ। আর সেটি যদি দ্রুত অস্ত্রোপচার না করা হয় তাহলে তার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে এর দরুন।

তবে বিষ্ণুপুর মহকুমা হাসপাতালে এরকম এক উন্নত পরিমাণের অস্ত্রপাচারের পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করা নেই, তাই সেখান থেকে দ্রুত তাকে রেফার করে দেওয়া হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে।আর বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে যাবার পরই ধরা পড়ে রোগীর গলার খাদ্যনালীতে বিঁধে থাকা সেই সূচটি খুব দ্রুত স্থান বদল করছে তার জায়গা থেকে, আর এর ফলে এই সূচ রোগীর গুরুত্বপূর্ণ শিরা-উপশিরা কে ভেদ করে দিতে পারে তাহলে সে ক্ষেত্রে রোগীর জীবন পর্যন্ত হতে পারে।

তবে সেই মুহূর্তে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে ছিল না কোন প্রকার কার্ডিও থেরোসিক চিকিৎসক। এমনকি সেই সময় জীবনের ঝুঁকি থাকার কারণেই সেই রোগীকে রেফার করার মত সময় ছিল না তাদের কাছে। শেষ পর্যন্ত সেই ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয় বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের ইএনটি বিভাগের তিন জন চিকিৎসকের একটি দল।অবশেষে গতকাল 23 শে জানুয়ারি সম্পন্ন হয় সেই অস্ত্রপাচার। প্রায় দু’ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর গলা থেকে সেই সূচটি বের করতে সক্ষম হয় সেখানকার চিকিৎসকেরা।

আর অন্যদিকে এ রকম এক ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপাচার কার্ডিও থোরাসিক চিকিৎসকের অনুপস্থিতে সাফল্য অর্জন করায় সকলেই সেই চিকিৎসকদের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন।এরকম এক অর্থপাচারে সাফল্য অর্জন করে স্বস্তির হাসি হাসতে সক্ষম হয় সেই বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের ডাক্তারেরা। আর তার সাথে এরকম এক ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে সাফল্য অর্জন করায় খুশি হয় সেই রোগীর পরিবারের লোকজনও।