অবশেষে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠদেশে অবতরণ করার ভিডিও ফুটেজ সহ একাধিক ছবি শেয়ার করলো NASA, দেখুন সব

গত মঙ্গলবার মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) মঙ্গলগ্রহের সাম্প্রতিক ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছে। এই ভিডিওর মাধ্যমে ধরা পড়েছে পারসিভ্যারেন্স লালগ্রহে অবতরণের স্বচিত্রটি। নাসা-র পারসিভ্যারেন্স রোভার যখন লাল গ্রহে অবতরণ করেছিল সেই মুহূর্তেই এই ভিডিওটি রেকর্ড করা। আর সেই ভিডিও এবার প্রকাশ করেছে নাসা।

 

এই ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া যায় প্যারাসুটে করে লালগ্রহের মাটি ছুঁচছে ওই যানটি। প্রায় সাত মাস আগেই পৃথিবী থেকে পারসিভ্যারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি পারসিভ্যারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করে। আর এই অবতরণের ছবি ধরা পড়ে ওই যানের মধ্যে থাকা হাই ডেফিনিশন ক্যামেরার মাধ্যমে। এন্ট্রি এবং ডিসেন্ট ক্যামেরা দলের প্রধান ডেভ গ্রুয়েল জানিয়েছেন, এটিকে আমি যতবার দেখি ততবার আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায় অত্যন্ত আশ্চর্যজনক সুন্দর এই ভিডিওটি।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by NASA (@nasa)

মঙ্গল গ্রহের নামার পরই পারসিভ্যারেন্স রোভারে লাগানো ২৫ টা ক্যামেরার মাধ্যমে ধরা পড়েছে মঙ্গল গ্রহের প্রতিটি কোণার চিত্র। প্রায় ঘণ্টায় ২০ হাজার কিমি গতিবেগ ছিল মঙ্গলের উপরের এই যানটির। এই যানটির গতি কমানোই ছিল এই টিমের সবথেকে কঠিনতম কাজ। এই গতি কমানোর কাজে সাহায্য করেছিল ১৮ বাই ২৬ ইঞ্চি জায়গায় জুড়ে থাকা ৭০ ফুট ব্যাসের প্যারাশ্যুটটি।

NASA

পারসিভ্যারেন্সের রোভারে লাগানো ক্যামেরা গুলির মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহের প্রতিটি পৃষ্ঠায় খুব কাছ থেকে ভিডিও আমাদের সামনে এসেছে। এই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে যে মঙ্গল গ্রহকে দেখতে একদম মরুভূমির মতো। এর পৃষ্ঠদেশ বেশ ঢেউ খেলানো মাঝে মাঝে রয়েছে কিছু গহ্বর।

রোভার যতই মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের কাছে যেতে থাকে। ততই রোভার নামে এই যানটির দ্রুতগতির জন্য প্রবল হাওয়ার সৃষ্টি হয়। আর এই হাওয়াতে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠদেশের ধুলো উড়তে থাকে। মঙ্গল গ্রহের কাছে যেতেই রোভারের আটটি ঢাকা আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করে।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওই মানটি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠদেশে অবতরণ করে। এই যানটি মঙ্গল গ্রহে কার্বনডাইঅক্সাইড থেকে অক্সিজেন তৈরির কাজ, মাটির নিচে জীবনের অস্তিত্ব বিষয়ে গবেষণা চালানোর পাশাপাশি মঙ্গল গ্রহে জলের খোঁজ নিয়েও কাজ চালানো হবে। মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়েও গবেষণা চালাবে পারসিভ্যারেন্স নামে এই যানটি।