দেশনতুন খবরবিশেষরাজনৈতিক

ভোটের আগে আরও একবার তৃণমূল কংগ্রেস পেতে চলেছে বড় ধাক্কা, নির্বাচনের আগেই বেরোতে চলেছে নারদ চার্জশিট…

লোকসভা ভোটের জন্য সমস্ত দলেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। রাজ্যের শাসক দল 42 এ 42 টি পাওয়ার লক্ষ্যে পুরোপুরি ঝাঁপিয়ে পড়েছে। রাজ্যের সমস্ত আসনে যেহেতু তৃণমূল পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে তাই প্রচারের ক্ষেত্রে তারা বাকি দলগুলোর থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। দুরন্ত গতিতে ছোটা তৃণমূলের প্রচারে যেন বাধা দিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। CBI জানিয়েছে, নারদ কাণ্ডের চার্জশিট দেওয়ার জন্য তারা তৈরি। 31 শে মার্চ কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময় শিবির এ কথা জানাতে। সিবিআই এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে নারদ কান্ডে অভিযুক্তদের একসাথে ডাকা হবে না। তিন পর্যায়ে নারদ কান্ডের চার্জশিট পেশ করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে অন্তত চারজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে চার্জশিট পেশ করবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। ম্যাথু স্যামুয়েল তে রেকর্ড করা ভিডিওতে যা দেখা গেছে তা খতিয়ে দেখেছে সিবিআই। এতে 2-3 জন নেতাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এখনই সঠিক ভাবে প্রমান করা কঠিন। তাই প্রথম চার্জশিটে তাদের নাম নাও থাকতে পারে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সিবিআই। প্রসঙ্গত 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি ভিডিও সবার সামনে আনা হয়েছিল। ওই ভিডিও গুলিতে দেখা গিয়েছিল ছদ্দবেশী সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েল এর কাছ থেকে এ রাজ্যের অনেক হেভিওয়েট নেতারা টাকা নিচ্ছে। এই ভিডিও সবার সামনে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর রাজনৈতিক মহল তোলপাড় হয়ে যায়। ঠিক এমনই সময় তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে একে ঘুষ নেওয়া বলাটা অন্যায়। দলের নেতাদের ভোটের জন্য চানা দিচ্ছিলেন ছদ্দবেশী সাংবাদিক ম্যাথু । এরপর তদন্ত হয় ম্যাথু স্যামুয়েল এত টাকা কোথার থেকে পেলেন। এই সমস্ত কিছু ঘটনা ঘটার পরেও 2016 বিধানসভা নির্বাচনে ঐ সমস্ত হেভিওয়েট নেতাদের প্রার্থী করেছিল তৃণমূল।

স্টিং অপারেশনে’ তা স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। এবারের লোকসভা নির্বাচনেও অনেক ‘নারদ-অভিযুক্ত’ নেতাদের প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সিবিআই চার্জশিট পেশ করার পর যদি ওই সেই সমস্ত নেতাদের নাম থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে শাসক দল কি ব্যবস্থা নেবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। আইন বলছে, নারদে অভিযুক্ত হেভিওয়েট নেতাদের ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গেছে, তারা অনেকেই সেই সময় সাংসদ পদে ছিলেন, তারপর তাদেরকে রাজ্যের মন্ত্রী করা হয়। আবার অনেকে সেই সময় মন্ত্রী ছিলেন কিন্তু এখন আর সেই পদে নেই। কিন্তু আইন এর মতে, ঘটনা ঘটার সময় ওই অভিযুক্ত যদি সাংসদ বা বিধায়ক পদে থাকলে যথাক্রমে বিধানসভা ও লোকসভার স্পিকার এর কাছ থেকে প্রসিকিউশন চালানোর অনুমতি নিতে হবে। তাই সিবিআই ওই পথেই হাঁটছে। তারা এ কাজ শুরু করে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, সিবিআই হাইকোর্টে জানাবে ম্যাথু স্যামুয়েল সব ঘটনা নিজের মুখে স্বীকার করে নিয়েছে।

দুজন অভিযুক্ত বাদে বাকি অভিযুক্তদের বাড়ি গিয়ে যে স্থানে টাকার লেনদেন হয়েছিল সেই স্থানে গিয়ে সিবিআই যাচাই করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকে আবার সিবিআই এর কাছে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। শুধু স্বীকার করাই নয় ফরেনসিক রিপোর্টে অভিযুক্তদের সাথে গলার মিল রয়েছে। সব মিলিয়ে দেখতে গেলে এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে তা সিবিআই পুরোপুরি নিশ্চিত। তাই এই সমস্ত কারণ দেখিয়ে সিবিআই কলকাতা হাইকোর্টে চার্জশিট পেশ করতে চলেছে। এখন দেখার বিষয় হলো ভোটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস এই ধাক্কাটা কেমন ভাবে সামলাতে পারে।

Related Articles

Back to top button