ইটালি-আমেরিকার মতো উন্নয়নশীল দেশেও আজ করোনার জেরে কাবু, তাই করোনা থেকে একমাত্র বাঁচার উপায় ঘরে থাকা-প্রধানমন্ত্রী…

গতকাল আবারো দেশে জুড়ে করোনা সংক্রমণ রুখতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তুলে ধরলেন করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর রূপের কথা একই সাথে তুলে ধরলেন আমেরিকা ইতালির মতো উন্নয়নশীল দেশের মরন করোনা ভাইরাসের জেরে যা অবস্থা হয়েছে তার কথাও।বিশ্বের সমস্ত রকম শক্তিশালী দেশ গুলিও করোনা ভাইরাসের মোকাবেলা করতে গিয়ে অসহায় হয়ে গিয়েছে।

অথচ আমাদের দেশের লকডাউন এর ঘোষণা করা হলেও অনেক ব্যক্তি তা মানছেন না গাফিলতির মাধ্যমে উড়িয়ে দিচ্ছেন, তাই আবারও এই ভাইরাসের ভয়ঙ্কর রূপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দেশবাসীকে আগামী 21 দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করলেন। তার বক্তব্য, ইটালি আমেরিকার মতো উন্নয়নশীল স্বাস্থ্যপরিসেবা গোটা বিশ্বে খ্যাত ,কিন্তু তা সত্বেও তাদের দেশেও করোনার প্রভাব কমাতে পারাননি তারা। যেখানে প্রথম 67 দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল 1 লক্ষ মানুষ তারপর আরও চার দিনে আক্রান্ত হয় আরো এক লক্ষ মানুষ।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বের শক্তিশালী দেশ গুলিও করোনা মহামারীর দরুন এখন অসহায় হয়ে গেছে , তারা দিনরাত চেষ্টা করছে কীভাবে এর প্রকোপ কমানো যায়।আর এই ভাইরাস এতটাই ভয়ঙ্কর যে প্রস্তুত থাকলেও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে সকল দেশকেই এখনো পর্যন্ত যেহেতু এই ভাইরাসের কোনো সঠিক প্রতিরোধক নেই তাই একমাত্র এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে রাস্তা রয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। তাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পরস্পরের সাথে দূরত্ব বজায় রাখুন,আর এরকম এক পরিস্থিতিতে নিজের ঘরে থাকা একটি করোনা হাত থেকে বাঁচার একমাত্র বিকল্প। দেশে করোনার ছড়িয়ে পড়া প্রকোপ রুখতে হবে করোনার যে শৃংখল রয়েছে সেটিকে ভাঙতে হবে।

এর পাশাপাশি এই দিন তিনি দেশের মানুষের কথা তুলে ধরেন, তিনি বলেন দেশে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা ভ্রান্ত ধারণা করছেন যে এই ভাইরাসের জেরে কিছুই ভাবে না আর এই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে তা নাকি শুধুমাত্র করোনা আক্রান্তদের  জন্যই, তাই তিনি মনে করিয়ে দিলেন এরকমভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ভুলভাল ধারণা আপনাকে এবং আপনার সন্তান পরিবার ও বন্ধুদের ক্ষতি করতে পারে।তাই গতকাল রাত্রি আটটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী আরো 21 দিনের জন্য দেশজুড়ে লকডাউন এর ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি জানালেন যদি এই 21 দিন আমরা সফল ভাবে লকডাউন জারি করতে না পারি, তাহলে আমাদের দেশ আরো 21 বছর পিছিয়ে যাবে এই ভাইরাসের জেরে।

এর পাশাপাশি প্রত্যেকটি ভারতীয় দের জীবন পরিবারের জীবন যেহেতু ভারত সরকার রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার, তাই হাত জোড় করে তিনি প্রার্থনা করেন বাড়ির বাইরে লক্ষণরেখা টেনে দেবার এবং 21 দিনের জন্য ঘরের মধ্যেই থাকুন জরুরি অবস্থা ছাড়া ঘরের বাইরে বেরোনোর কোন প্রয়োজন নেই।কারণ আপনারা হয়তো বুঝতে পারছেন না এই ভাইরাসের প্রকোপ কতখানি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে ভারতে এবং তার মাশুল গুনতে হতে পারে গোটা দেশকে। তাই সময় থাকতে সচেতন হোন সতর্ক থাকুন এবং বাড়ির বাইরে বেরোবেন না।

এই মুহূর্তে সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করা হচ্ছে কীভাবে এই ভাইরাসের মোকাবেলা করা যায় তা নিয়ে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার গুলিতে যারা এই লকডাউন এর বিধি নিষেধ মানবে না তাদের ওপর আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।