পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে আটটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করলো নবান্ন, রইল সম্পূর্ণ তালিকা..

লকডাউনের ফলে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছে। এবং রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের কিভাবে তাদের বাড়িতে ফেরানো যায় সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে ফেরানোর জন্য 8 টি  বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিযায়ী শ্রমিকদের কিভাবে বাড়ি ফেরানো হবে সে বিষয়ে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে নবান্নে তরফ থেকে।

তবে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিককে আজমেঢ় ও কেরালা 2 টি ট্রেনে করে বাড়ি ফেরানো হয়েছে। আসুন আমরা জেনে নিই তবে কোন রুটে ট্রেন গুলি চালানো হবে – 9 মে, 10 মে এবং 11 মে এই তিনদিন মোট আটটি ট্রেন নিয়ে চন্ডিগড়, জলন্ধর, বেঙ্গালুরু ভেলোর এবং হায়দ্রাবাদ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রওনা দেবে বাংলার উদ্দেশ্যে। প্রথমে 9 মে ব্যাঙ্গালোর থেকে 3 টি ট্রেন এবং হায়দ্রাবাদ থেকে একটি ট্রেন ছাড়বে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে। ব্যাঙ্গালোর থেকে তিনটি ট্রেনের মধ্যে প্রথম ট্রেনটি আসবে বাঁকুড়া জেলাতে। মোট বাঁকুড়ার 1387 জন এবং ঝাড়গ্রাম এর 527 জন পরিযায়ী শ্রমিককে আনা হবে প্রথম দিনে। এর পর ব্যাঙ্গালোর থেকে যে দ্বিতীয় ট্রেন ছাড়বে সেটি যাবে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। এরপর আবার ওখান থেকে ফেরত আনা হবে কোচবিহারের 3117 জন, জলপাইগুড়ির 319 জন, কালিম্পং এর 3 জন, আলিপুরদুয়ারের 151 জন এবং দার্জিলিং এর 117 জন পরিযায়ী শ্রমিকদের।এর পর ওই দিনেই ব্যাঙ্গালোর থেকে তৃতীয় ট্রেন ছাড়বে। এই ট্রেনটির গন্তব্যস্থল হবে পুরুলিয়া স্টেশন। এই ট্রেনটিতে পুরুলিয়ার 1244 জন, পশ্চিম বর্ধমানের 196 জন এবং বীরভূমের 590 জন পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো হবে।

এরপর আবার হায়দ্রাবাদ থেকে আসা ট্রেনটি ওই দিনেই অর্থাৎ 9 তারিখ ফিরে আসবে মালদা স্টেশনে।মালদা তে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের আবার ওই ট্রেনেই ফেরানো হবে বলে জানিয়েছে সরকার। কিন্তু মালদহ থেকে ঠিক কতজন পরিযায়ী শ্রমিকদের আনা হবে তার সংখ্যা এখনো সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। এরপর 11 মে জলন্ধর থেকে যে ট্রেনটি ছাড়া হবে সেটির গন্তব্যস্থল হবে ব্যান্ডেল স্টেশন।এই ট্রেনটিতে হুগলি জেলার 1064 জন আর নদীয়ার 250 জন পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো হবে। ঐদিন আবার 2 টি ট্রেন ভেলোর থেকে বাংলার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এই ট্রেনটিতে পরিযায়ী শ্রমিক ছাড়াও যে সমস্ত ব্যক্তিরা ভেলোরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে লকডাউন এর ফলে আটকে পড়েছেন তাদের ফেরানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর 11 মে ভেলোর থেকে যে ট্রেনটি ছাড়বে সেটি তার পরের দিন 12 মে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছাবে। এই ট্রেনটিতে থাকবে নদীয়ার 223 জন, উওর 24 পরগনার 472 জন, পশ্চিম বর্ধমানের 336 জন এবং হাওড়ার 199 জন পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো হবে। যে দ্বিতীয় ট্রেনটি ভেলোর থেকে ছাড়বে সেই ট্রেনটিও 12মে খড়গপুর স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রওনা দেবে। এই ট্রেনটিতে থাকবে পশ্চিম মেদিনী পুরের 335 জন, পূর্ব মেদিনীপুরের 241 জন, হুগলির 200 জন, দক্ষিণ 24 পরগনার 243 জন, পূর্ব বর্ধমানের 102 জন, কলকাতার  97 জন পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো হবে। এরপর 11 মে চন্ডিগড় থেকে যে ট্রেনটি ছাড়া হবে সেটির গন্তব্যস্থল হবে দূর্গাপুর স্টেশন। এই ট্রেনটিতে বীরভূমের 36 জন, পুরুলিয়ার 77 জন, বাঁকুড়ার 925 জন এবং পশ্চিম বর্ধমানের 261 জন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আসবে।