ভোটের মুখে আবারো রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ফাটল, BJP তে যোগদান একাধিক হেভিওয়েট নেতার

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আর মাত্র কয়েকটা দিন মাঝে বাকি। ভোট মঞ্চে জয়লাভ করার জন্য প্রতিটি দলই প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরইমধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে বারবারই বেসুরো হাওয়া বইছে। এইবার ভোটের মুখে এসে বড়সড় ধাক্কা জোড়া ফুল শিবিরে। ভোটের টিকিট না পাওয়ায় বিভিন্ন বিক্ষুব্ধ নেতারা তৃণমূল ছেড়ে যোগদান করলেন বিজেপি শিবিরে।

 

আমরা এর আগেও দেখেছি যশ দাশগুপ্ত, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারীর মত হেভিওয়েট নেতারা তৃণমূলে ছেড়ে যোগদান করেছেন বিজেপিতে। আবারো ছন্দপতন তৃণমূলে। বহু নেতারা ভোটের টিকিট না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপি শিবিরে ভিড় করেছেন।গত ৫ ই মার্চ তৃণমূলের সুপ্রিমো শ্রীমতি মমতা ব্যানার্জি তৃণমূলের বিধানসভা ভোটের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন।

এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় স্থান পেয়েছে বিভিন্ন তারকারা। বেশিরভাগ পুরনো বিধায়ক মন্ত্রীরা এবার ভোটের টিকিট পাননি। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছিলেন যে যদি তিনি ভোটে যেতেন তাহলে এই সমস্ত নেতাদের তিনি বিধান পরিষদের সদস্যপদ দেবেন। কিন্তু বাংলায় বিধান পরিষদ নেই। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য হল ভোটে জিতলে তার পরে তিনি বিধান পরিষদ গঠন করবেন।

ভোটের টিকিট না পাওয়ায় বিভিন্ন নেতারা কয়েকটি বিক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ভোটের টিকিট না পাওয়ায় সোনালী গুহ সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেন। দোষী সাব্যস্ত করেন মমতা ব্যানার্জিকে। ভোটের টিকিট না পাওয়ায় আরাবুল ইসলাম বলেন যে আমি টুপি পড়া মুসলমান কয়লা মাফিয়াদের সাথে হাত মেলাতে পারিনি বলে আমার নামটি প্রার্থী তালিকায় দেওয়া হয়নি।

এই ভোটের মুখে বিভিন্ন নেতারা তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় স্থান না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। এই নেতাদের মধ্যে ছিলেন সিঙ্গুরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা সাতগাছিয়ার তৃণমূল বিধায়ক সোনালি গুহ, বিদায়ী বিধায়ক জটু লাহিড়ী, ফুটবলার তথা বিদায়ী বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস, সাঁকরাইলের তৃণমূল বিধায়ক শীতল সর্দার, অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তী।

আজ সোমবার, ৮ মার্চ হেস্টিংসের বিজেপির দলীয় নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে এই নেতারা গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন। ওই দলীয় সভায় উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায়, লকেট চ্যাটার্জি। এই বিক্ষুব্ধ নেতাদের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মহাশয়। ভোটের আগে এই বড়োসড়ো ধরনের ফাটল তৃণমূলে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।