প্রস্তুতি শুরু জোরকদমে, বাংলা ছাড়াও একাধিক রাজ্যে পালিত হবে “তৃণমূলের শহীদ দিবস”

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিপক্ষ দল হিসেবে মমতা ব্যানার্জির নাম উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট কে লক্ষ্য করে এবার তৃণমূলের শহীদ দিবস পালিত হবে বাংলার বাইরেও। এমনই অনুমতি পাওয়া গেছে তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছ থেকে। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতার ডাকে মহাকরণ অভিযানের জন্য কলকাতার রাজপথে নামেন কয়েক হাজার যুব কংগ্রেসকর্মী।

রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সচিবালয়ে এই অভিযান রুখতে তৎপর হয় পুলিশ। বিভিন্ন ক্রসিং-এ গড়া হয় ব্যারিকেড। এরপরই হঠাৎ চলতে থাকে গুলি। সেই গুলিতে নিহত হন ১৩ জন যুবকংগ্রেস কর্মী। এই ‘শহিদ’রা হলেন- বন্দনা দাস, মুরারী চক্রবর্তী, রতন মণ্ডল, কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ রায়, অসীম দাস, কেশব বৈরাগী, শ্রীকান্ত শর্মা, দিলীপ দাস, রঞ্জিত দাস, প্রদীপ দাস, মহম্মদ খালেক, ইনু। তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একুশে জুলাই দিনটিকে ওই কর্মীদের স্মরণে পালন করে আসছেন।

তবে গতবছর করোনার ধারা ঊর্ধ্বগামী হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিতে চাননি তৃণমূল সুপ্রিমো তাই গত বছর থেকেই ভার্চুয়াল ভাবে এই দিনটিকে স্মরণ করা হচ্ছে। এখন করণা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও রাজনৈতিক জামায়াতের জন্য অনুমতি দেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাই এই বছরও এই দিনটিকে ভার্চুয়াল ভাবে পালন করা হবে। তবে এইবারের অনুষ্ঠান পশ্চিম বাংলার বাইরে দেখা যাবে।

গত বছরের মতো এই বছরও ওই শহীদ দিবসের দিন কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় থেকে বক্তিতা রাখবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যসভা, লোকসভার সাংসদ এবং দিল্লিতে দলীয় কর্মীদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক সুধাংশু শেখর রায় জানিয়েছেন, “করোনার কারণে এবার শহিদ দিবস ভারচুয়ালি পালন করা হচ্ছে।

তাই দেশের যেখানে যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য-সমর্থক রয়েছেন, সেখানেই তৃণমূল নেত্রীর ভাষণ শোনা যাবে। দিল্লির তৃণমূলের দপ্তরেও একইভাবে পালিত হবে ২১ জুলাই। আসলে সেই সময় সংসদের বাদল অধিবেশন চলবে। ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভার বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ দিল্লিতেই থাকবেন। তাই দিল্লির তৃণমূল দপ্তরে একটি এলইডি স্ক্রিন লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”