দেশজুড়ে করোনা মহামারী,আর এইদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প’ এর কাজ চলছে রমরমিয়ে

সমগ্র  দেশজুড়ে থাবা বসিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত৷ বিশেষত, দেশের রাজধানী  দিল্লির অবস্থা শোচনীয়। চারিদিকে অক্সিজেন নেই,প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই, কেবল মৃত্যুমিছিল। এই পরিস্থিতিতে  বাধ্য হয়ে আবার  লকডাউনের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন  দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দেশের  এহেন অবস্থায়, করোনা মহামারীর (Covid-19 pandemic) মধ্যে সব কিছু স্তব্ধ হয়ে গেলেও  কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প’ (Central Vista Project)-এর কাজ কিন্তু এখনও  চলছে রমরমিয়ে।

 

এই বিষয় কে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সমালোচনার ঝড়  উঠেছে, সেই সঙ্গে ওই প্রকল্পকে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আবেদন জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)।বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট  জানিয়েছে জমা পড়া আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার শুনানি হবে। ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। আগামী ১৭ মে পর্যন্ত মামলার শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু দিল্কিতে সংক্রমণ এবং মৃত্যু যে হারে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে, সে কথা মাথায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব  সুপ্রিম কোর্টকে  হস্তক্ষেপ করার জন্য  আবেদন জমা পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সেই শুনানিতে সম্মতি দান করেছে৷  তবে, শুনানির তারিখ এখনও  স্পষ্ট নয়।

সেভিং অ্যাকাউন্টকে জনধন অ্যাকাউন্টে পরিবর্তন করলে মিলবে একাধিক বিশেষ সুবিধা, বিস্তারিত জানতে

শীর্ষ আদালতে ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প’-এর নির্মাণকার্যে স্থগিতাদেশ জারি করার আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা।  জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য আরেকটি আবেদন করতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প সেন্ট্রাল ভিস্তা। প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত । ২০২২ এর ডিসেম্বরের মধ্যে সেই নির্মাণ শেষ করার কথা। তাই লকডাউনেও জোরকদমে কাজ চলছে। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের নির্মাণে  সম্ভাব্য খরচ প্রায় কুড়ি হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই বিরোধীরা সরব হয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধি লিখেছেন, ‘সরকারি অর্থের সমস্ত করোনা আক্রান্তদের সেবায় খরচ না করে সরকার প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের বাড়ি বানাচ্ছে।’

এই কাজে এত বিপুল অর্থব্যয় এর পরিবর্তে  দারিদ্র সীমার নীচে যারা, তাদের ন্যূনতম অ্যায় সুনিশ্চিত করার পক্ষে  সওয়াল করেছেন রাহুল গান্ধি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার অসম্মতি জানিয়ে পালটা  যুক্তি দিয়েছেন , পুরনো ভবনগুলির অবস্থা ভালো নয়, তাই শীঘ্র নতুন ভবন তৈরির কাজ চলছে।