আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আবারো দেশি হাতিয়ার নির্মাণের ওপর জোর মোদীর

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও একবার  ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। অস্ত্র তৈরিতে ভারত পিছিয়ে রয়েছে, এই আক্ষেপ শোনা গেছে মোদীর মুখে৷  তাই এবার ‘দেশি’ হাতিয়ার নির্মাণে জোর দেওয়ার বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী।

 

রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ভারচুয়াল বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরিতে আমাদের একশো বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত হাতিয়ার রপ্তানি করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এখন অত্যন্ত ছোট হাতিয়ারও আমাদের আমদানি করতে হয়। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানিকারী দেশ হিসেবে আমরা অন্যতম।”

নরেন্দ্র মোদি

প্রতিরক্ষা ক্ষত্রে পরিবর্তন আনয়ন এর ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “১০০টি পণ্যের আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি তালিকা তৈরি করেছে সরকার। এটা আমাদের আত্মনির্ভর করে তুলবে। কারণ, এর ফলে অন্য দেশের উপর নির্ভর করার প্রবণতা করবে। দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”

 

3 Idiots এর “ফুংসুখ ওয়াংড়ু’র” নতুন আবিষ্কার, মাইনাস তাপমাত্রাতেও ভারতীয় জওয়ানদের লাগবে না ঠান্ডা

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে  প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ৭৪ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের রাস্তা খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পরনির্ভরশীল না থেকে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নিজের দেশেই, নানারকম অস্ত্র সরঞ্জাম তৈরি করার মাধ্যমে দেশকে আত্মনির্ভর করার পথে অগ্রসর করাই লক্ষ্য কেন্দ্রের। ২০২০ সালের  ডিসেম্বর মাসে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ মিসাইল সিস্টেম (Akash missile system) রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছিলেন, “অত্যাধুনিক হাতিয়ার রপ্তানি করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত সরকার। অস্ত্র রপ্তানির মাধ্যমে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পাশাপাশি, বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করাও সরকারের উদ্দেশ্য।”

সূত্রের খবর, ভিয়েতনামকে  আকাশ মিসাইল সিস্টেম তুলে দেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে। এই ভারতীয় মিশাইল মাটি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় শত্রুর যুদ্ধবিমান, কপ্টার বা ড্রোনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে।  এর আগে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল আর  বরুণাস্ত্র অ্যান্টি-সাবমেরিন টর্পেডো ভিয়েতনামকে দিতে চেয়েছিল ভারত ।