মমতার বিরুদ্ধে শান্তনুকেই প্রার্থী করছেন জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই…

শান্তনু ঠাকুরকে নিয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল। অবশেষে বিজেপির তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শান্তনু ঠাকুর লোকসভা ভোটে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন। মতুয়া মহাসঙ্ঘের মুখপাত্র অরবিন্দ বিশ্বাস শনিবার জানিয়ে দেন লোকসভা নির্বাচনে মমতা ঠাকুরের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়াবেন বিজেপির প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর। প্রসঙ্গত মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান বীণাপাণি দেবী মারা যাওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে নানান জল্পনার সৃষ্টি হচ্ছিল। এ নিয়ে সান্তনা ঠাকুর বলেছিলেন পরবর্তী প্রধান তিনি হবেন। এর পর থেকেই তার প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াই শুরু করে দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। এর পর থেকে রাজনৈতিক মহলের জল্পনার সৃষ্টি হচ্ছিল যে এবার লোকসভা নির্বাচনে শান্তনু ঠাকুর বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন।

অপরদিকে বাগদার কংগ্রেস বিধায়ক দুলাল বরের নাম শোনা যাচ্ছিল। কারন দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দেওয়া দুলাল কে প্রার্থী করার জন্য দিল্লিতে প্রস্তাব পাঠিয়ে ছিলেন। দুলাল বর যখন তৃণমূলের নেতা ছিলেন তখন তপশিলি জাতি ও উপজাতি সংগঠনের নেতা ছিলেন। এছাড়াও দুলাল বর বাগদায় বিধায়ক থাকাকালীন বনগাঁয় ও গাইঘাটাতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এই বিধায়কের। আর তাই বিজেপির অনেকেই তাকেই প্রার্থী হিসেবে চাইছিলেন। কিন্তু এতে অধিকাংশ মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এদিকে যেমন মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি আবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই দুলালবাবু ঠাকুর বাড়িতে আছেন। ঠাকুরবাড়িতে বীণাপাণি দেবের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন দুলাল বাবু। সেখানে গিয়ে মতুয়া ভক্তদের ক্ষোভের মুখে পড়ে যান তিনি। এরপর কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ঠাকুর বাড়ি ছেড়ে চলে যান দুলাল বাবু। এরপর অন্য কাউকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলে তার ফল ভালো হবে না বলে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারেন বিজেপি নেতৃত্ব।

আর এর জেরেই শান্তনু ঠাকুরের নাম প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে। শনিবার সকাল থেকেই জল্পনা উঠছিল যে শান্তনু ঠাকুর বিজেপির প্রার্থী হতে চলেছেন। তখন থেকেই মতুয়া সমর্থক থেকে বিজেপি কর্মীরা শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকে। এরপরে মতুয়া সম্প্রদায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মতুয়াদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এক গোষ্ঠী চার্জের শান্তনু ঠাকুর প্রার্থী হোক আরেক গোষ্ঠী চাইছে শান্তনু ঠাকুর যেন প্রার্থী না হয়। মতুয়া মহাসঙ্ঘের গোষ্ঠীর এর মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক চলে। এরপর শনিবার বিকেলে মতুয়া মহাসঙ্ঘের মুখপাত্র অরবিন্দ বিশ্বাস জানান যে, তারা শান্তনু ঠাকুর কে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করবে ঠিক করেছেন। প্রসঙ্গত গত বুধবারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকে শান্তনু ঠাকুর দিল্লি গিয়েছিলেন। তার অনুরোধেই তিনি ভোটে দাঁড়াতে রাজি হয়েছেন।

এরপর শান্তনু ঠাকুর জানান, তিনি মতুয়াদের পাশে থেকে রাজনীতি মুক্ত ঠাকুর বাড়ি করতে চান। এরপরে জেঠিমার বিরুদ্ধে লড়াই তার কাছে কতটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জবাব দেন, মতুয়ারা চাইলে সবকিছু করতে পারে। এটা এমন কিছু কঠিন ব্যাপার নয়।

Krishna

Krishna, a B.tech students writes on Technical and Business related Articals. Contact : krishnagarain.india@gmail.com

Related Articles

Close