পর্ন ভিডিও দেখা নিয়ে মোদী সরকার নিলো এক নতুন পদক্ষেপ…

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া,ইন্টারনেট মানুষের ওপর এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে এগুলি ছাড়া এখন বেঁচে থাকা কঠিন বলা যেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া সেন্টার এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা পুরো দুনিয়াটাকে হাতের মুঠোয় করে রেখেছি। আর তার সাথে স্মার্টফোন তো রয়েছে। বর্তমানে খুব কম মানুষই আছে যারা স্মার্ট ফোন ব্যাবহার করে না। ইন্টারনেট, মোবাইল,সোশ্যাল মিডিয়া যেমন আমাদের অনেক সাহায্য করে তেমনি আবার এর অনেক কুপ্রভাব ও আছে। বিশেষ করে ইয়ংজেনারেশন বা টিনএজাররা ইন্টারনেটে খুব বাজে ব্যবহার করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্মার্ট ফোন এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার করে ইয়ংজেনারেশন রা যেসমস্ত পর্ন ভিডিওতে মেতে থাকে তা সমাজের উপর খুবই খারাপ প্রভাব পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।এই সমস্ত ভিডিও দেখে টিনএজারদের মনে যৌন উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় তারা পর্ন ভিডিও দেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে।

অনেকেই প্রাইভেট ছবি বা আপত্তিকর ভিডিও বিভিন্ন পর্ন সাইটে ছেড়ে ব্ল্যাক মেইল এর মত অপরাধজনক অপরাধ জনক করে। এর জন্য অনেক টিনএজারদের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। তার সাথে ধর্ষণ, শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ বর্তমানে দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইয়ং জেনারেশনরা নীল ছবির দুনিয়াতে ঢুকে পড়ছে ফলে তারা নিজেদের স্বাভাবিক জীবন যাপন নষ্ট করে ফেলছে।তাই এই সব বন্ধ করতে চলেছে সরকার। এই বিষয়ে উত্তরাখান্ড হাই কোর্ট সরকারকে উদ্যোগী হতে বলেছিলেন। হাইকোর্টের বিচারপতি বলেছিলেন, ‘যে সমস্ত ওয়েব সাইটে পর্ন ভিডিও দেখানো হয় সেই সব ওয়েবসাইটগুলি ব্লক করে দেওয়া অর্থাৎ যে সমস্ত মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার গুলি ভারতের ইন্টারনেট পরিষেবা দেন তারা যেন সমস্ত ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয়।’
এই নির্দেশ হাইকোর্ট থেকে পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের নির্দেশ দেন তারা যেন সমস্ত পর্ন ওয়েব সাইট গুলোকে যাতে স্থায়ীভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়। ইন্টারনেট ইউজাররা যেন মোবাইলে বা অন্য কোন মাধ্যমে এই সমস্ত ওয়েব সাইট না খুলতে পারে।

উত্তরাখণ্ডে হাইকোর্টে মোট 857 টি পর্ণ ওয়েব সাইটের কথা বলা হয়েছে। তারমধ্যে জানা গিয়েছে 30টি ওয়েবসাইটে কোনো কনটেন্ট নেই। ফলে এই 30 টি ওয়েবসাইট বাদ দিয়ে বাকি ওয়েবসাইটগুলোকে ব্লক করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে এই ওয়েব সাইটগুলি কে Jio পুরোপুরিভাবে ব্লক করে দিলেও বাকি সার্ভিস প্রোভাইডাররা এখনো পর্যন্ত ব্লক করেননি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে স্মার্ট ফোন থেকে পর্ন ভিডিও দেখা কিছুটা হলেও কমবে তার পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের ঘটনাও কমবে। সাধারণ মানুষের দাবি সরকার এই পদক্ষেপে দেশের ও সমাজের মঙ্গল হবে। তাই সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ অনেকটাই কার্যকরী হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Related Articles

Close