দেশনতুন খবরবিশেষলাইফ স্টাইল

চাকরিজীবীদের সুদিন দিতে আরও ছাড় আয়করে, ইঙ্গিত দিলেন খোদ পিএম নরেন্দ্র মোদী…

মূলত আমাদের দেশের সামগ্রিক ক্রেতা চাহিদার বেশিরভাগ তাই আসে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের তরফ থেকে। তবে দিন দিন এবার কমছে সেই ভোগ ব্যয়। আগের তুলনায় দেশের জনগণ এখন অনেকখানিই ভোগ ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। আর যার দরুনই বর্তমানে ক্রেতার চাহিদা অনেকখানি কমে গেছে। তা সে বলতে পারেন ব্যাংকের সুদের হার কমাতে পারে কিংবা বিভিন্ন নানান কারণে বাজারমুখী নন এখনকার ক্রেতারা। তাই এবারে সেই মধ্যবিত্তদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে মোদি সরকার এখন লেগে পরেছেন।

যার দরুন এবার মোদি সরকারের তরফ থেকে অনেক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এবার থেকে সেইসব মধ্যবিত্ত লোকেদের কর কমিয়ে হাতে বেশি টাকা দিতে চাইছে অর্থমন্ত্রক।এর আগে ব্যক্তিগত আয়করের হার শুধু কর্পোরেট সংস্থাগুলির আয় করের বোঝা অনেকখানি কমে তবে এর দরুন হাতেনাতে ফল মেলেনি কিছু যার দরুন এবার নতুন করে আয় করে ছাড়ের ঘোষণার কথা ভাবতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে এরকমটা ইঙ্গিত মিলেছিল। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফ থেকে ইঙ্গিত পরিষ্কার হয়ে গেল। গত রবিবার দিন থাইল্যান্ডে আদিত্য বিড়লা গ্রুপের একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তিনি একথা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এইদিন তিনি এই বক্তৃতায় বলেন এবার তার সরকার কর কাঠামো কে আরো জনদরদি করে তুলতে চাইছে সাধারণ মানুষের কাছে।এর প্রধান লক্ষ্য হলো আরো বেশি করে বিদেশী পুঁজি কে দেশে নিয়ে আসা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলা।নতুন শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে না।

তাছাড়া এই উৎসবের মরসুমেও গাড়ি-বাড়ি, ভোগ পণ্যের বাজারে বিক্রি সেরকম আর উৎসাহজনক নেই।তাই এরকম এক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ভাবনা এখন ব্যক্তিগত আয়কর ব্যবস্থার সংস্কারের উপর। এবার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ বাজেটে ব্যক্তিগত আয়কর দাতাদের জন্য করসীমায় বড়সড় রদবদল করতে পারেন মোদি সরকার বর্তমানে এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে। আর এই নতুন করকাঠামো র দরুন সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে সেই সমস্ত ব্যক্তিরা যাদের বছরের মোট আয় 10 লক্ষ টাকা থেকে 20 লক্ষ টাকার মধ্যে রয়েছে। এই বিষয়ে আয়কর দপ্তরের উপদেষ্টা সংস্থা কেপিএমজি সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গেছে বর্তমানে ভারতে ব্যক্তিগত আয়কর এর সর্বোচ্চ কার্যকারী হার 42.74 শতকরা। এরই মধ্যে রয়েছে সেস ও সারচার্জও। আর তুলনামূলক ভাবে দেখতে গেলে এই করের এশিয় গড় দাঁড়ায় 29.99 শতকরা। আর এই হিসেব অনুযায়ী যা জানা যাচ্ছে তাতে দেখা গেছে ভারতীয়রা বেশি পাওয়া যায়। বর্তমানে যে পর কাঠামো রয়েছে সেখানে বছরের 10 লক্ষ টাকার বেশি আয় হলে 30 শতকরা হারে কর দিতে হয়।

গত আগস্ট মাসে এই নতুন প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধি নিয়ে অখিলেশ রঞ্জন কমিটির রিপোর্ট অর্থ মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছিলেন তাতে এই করের হার কমিয়ে পরিশোধ করা এবং যারা বছরে 2 কোটি টাকার বেশি আয় করেন এরকম ব্যক্তিদের কাছে থেকে 35 শতকরা প্রান্তিক হারে কর নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আর তারই সাথে ব্যক্তিগত আয় করের ক্ষেত্রে যাবতীয় সারচার্জ তুলে নেওয়ার সুপারিশ ও করা হয়েছে এই রিপোর্টে।গত সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামন কর্পোরেট সংস্থাগুলির জন্য করের হার কমানোর পাশাপাশি পৌঁছে করছাড় নেওয়ার বিভিন্ন সুবিধা গুলি কে প্রত্যাহার করেন।

তাই আগামী বাজেটেও ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রে করের হার কমানোর পাশাপাশি কর ছাড় নেওয়ার একাধিক বর্তমান সুবিধাও তুলে দিতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।এর আগে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ব্যক্তিগত আয় করের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা দু’লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে সেটিকে করা হয়েছিল 2.5 লক্ষ টাকা। এবারও সেটার পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যেমন কি আমরা জানি রিজার্ভ ব্যাংক সুদ কমালো অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আর বিশেষ আর্থিক ক্ষমতা নেই গৃহস্থ পরিবারগুলির কাছে। তাই এখন কর কমিয়ে তাদের হাতে আয় বাড়ানোর সহজ উপায়ের রাস্তাকে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button