কাজে ফাঁকি মেরে বেতন নেওয়ার দিন শেষ! দুর্নীতি পরায়ণ ও কুঁড়ে অফিসারদের ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু

মোদী সরকার সম্প্রতি যে সব কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের কর্মজীবনের 30 বছর পূরণ হয়ে গিয়েছে তাদের পর্যায় ক্রমিক কর্মক্ষমতা পর্যালোচনা করেছে। যার পরে 28 শে আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার কারণে বর্তমানে 49 লক্ষ সরকারী কর্মচারী চিন্তায় পড়েছে। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা এখন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। এবার অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মীদের চিহ্নিত করে জনস্বার্থে তাদের আগাম অবসর দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

কারন যেমনটা আমরা জানি দেশের একাধিক সিস্টেম কেমন ভাবে সক্রিয় থাকবে তার অধিকাংশ দায়িত্বভার থাকে সরকারি কর্মচারীদের উপর। তাই এমন অবস্থায় যদি সরকারি কর্মকর্তারা কুড়েমি করে তাহলে তার ফল ভুগতে হয় গোটা দেশকে। তাছাড়া ভারতে এরকম অনেক উদাহরন প্রায় দেখা মিলেছে যেখানে কর্মকর্তারা প্রায় কাজে গাফিলতি দেখিয়েছেন,আর এর ফলে শুধু যে সিস্টেমের ক্ষতি হচ্ছে শুধু তাই নয় এর ফলে একাধিক সৎ ও পরিশ্রমী কর্মকর্তাদেরও কাজের প্রতি মনোবল কমে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যেসব সরকারি কর্মীদের 30 বছর কর্মজীবন পূরণ হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করতে, তারপর সেই তালিকা প্রতিটি দপ্তরের সার্ভিস রেকর্ড করার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ কোনো কর্মীর কর্মজীবনের বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হবে। আর সেটি দেখেই কর্মদক্ষতা এবং সেবার প্রতি তার স্বচ্ছতাকে খতিয়ে দেখা হবে সেই কর্মীর।সরকারি সূত্রের দাবি, দেশের মানুষ যাতে ভালো পরিষেবা গ্রহণ করতে পারে তাই এরকম এক পদক্ষেপ নেওয়া হতে চলেছে সাথে সাথে এটাও বলা হয়েছে এটা কোনো শাস্তি নয় বরং স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার অন্য একটি রূপ।

কেন্দ্রের এক নির্দেশিকাতে বলা হয়েছে, ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ থেকে এটি পৃথক। সিসিএস (পেনশন) বিধির মৌলিক নিয়ম -1972 বিধি-এর এফআর 56 (জে) / বিধি -48 (1) (বি) এর অধীনে যে কোনও কর্মচারীকে অবসর নেওয়ার অধিকার সরকারের রয়েছে। আর জনস্বার্থের জন্য যদি কোনও কর্মচারী খুব গুরুত্বপূর্ণ হয় তবে এই বিধিটি তার জন্য প্রযোজ্য হবে না। তবে সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে দুর্নীতি, গাফিলতি, ফাঁকিবাজির অভিযোগে সরকার কর্মীদের অবসর দিতে পারে। যার জন্য প্রতিটি দপ্তরকেই রেজিস্টার তৈরি করতে বলা হয়েছে। প্রতি ত্রৈমাসিকের শুরুতে তা খতিয়ে দেখবেন দপ্তরের সিনিয়র আধিকারিকরা। যেখানে দেখা হবে কর্মীর সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করার দক্ষতা আছে কী না, তাঁর তার পাশাপাশি সেই কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা।