ধর্ষকদের প্রাণভিক্ষার সুযোগই থাকা উচিত নয়! এক্ষেত্রে সংবিধানের সংশোধনের প্রয়োজন আছে: রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ…

হায়দ্রাবাদের গণধর্ষণ ও খুনের অভিযুক্তদের এনকাউনটার মৃত্যুতে যখন গোটা দেশজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে, তারই মধ্যে দেশ জুড়ে শিশু ধর্ষণ রুখতে জোরালো সওয়াল করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের। এদিন সংসদের কাছে রাজ্যপাল আর্জি জানান শিশু ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার পর যে প্রাণভিক্ষার সুযোগটা মিলে সেটা তুলে দেওয়া উচিত, এজন্য সংবিধানে সংশোধনের প্রয়োজন আছে। এ কথা রাষ্ট্রপতি উদয়পুরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন।

তিনি বলেন আমার প্রস্তাব হলো ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্তদের ক্ষমা ভিক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে সংবিধানে ধারায় কিছু সংশোধন করার প্রয়োজন আছে। আমি মনে করি শিশু ধর্ষণে দোষী ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার পর তাদের যে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগটা দেওয়া হয় সেটা উচিত নয়।কারণ এই ধরনের ঘটনা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দেয়।এক্ষেত্রে আমি আমার নিজস্ব বক্তব্য শেয়ার করলাম কিন্তু সংবিধানের সংশোধনী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সেই সংসদের মধ্যেই। গত আগস্টে POCSO আইনে সংশোধনী আনা হয় যেখানে শিশু ধর্ষণের সাজা করা হয় মৃত্যুদণ্ড।

অন্যদিকে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন কোন ভাবেই মৃত্যুদণ্ড কোন একটি মানুষের অপরাধকে কম করতে পারে না। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুলিশের কাছে দায় হওয়া অভিযোগের সংখ্যা খানিকটা কমতে পারে। তবে শুধু এটাই নয় এক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে 94 শতাংশ ক্ষেত্রেই শিশু ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত যে ব্যক্তিটি থাকে, সে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুটির কাছে পরিচিত ব্যক্তি হয়ে থাকে। অন্যদিকে এক সরকারী সমীক্ষা অনুযায়ী ডেটা বেস অনুযায়ী দেশের বেশিরভাগ রাস্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষার জন্য আর্জি করে থাকেন, তবে বলে রাখি 1991 সাল থেকে 2010 সালের মধ্যে মোট 77 টি প্রাণভিক্ষার আর্জি এসেছিল যার মধ্যে 69 টি প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

আর এখন নির্ভয়ার গণধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত দোষীদের প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজের আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে জানাল কেন্দ্র। অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার দিন ভোর তিনটে নাগাদ এনকাউনটার মৃত্যু হয়েছে হায়দাবাদ ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত 4 জনের। প্রাথমিকভাবে কিছু তদন্তের জন্য এই চারজনকে পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল সেই ঘটনাস্থলে। তবে সেই সময় তারা সেখান থেকে পালাবার চেষ্টা করে, যার সাথে সাথে এই অভিযুক্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারপর সেখান থেকে চম্পট দিতে শুরু করে। তবে পুলিশের তরফ থেকে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হলেও, এই অভিযুক্তরা পুলিশের কোনো কথায় কান দেয়নি ফলে বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালায় তাদের ওপর। যার ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এই চার অভিযুক্তের।

Related Articles

Close