তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন,এ কীসের ইঙ্গিত?

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমবর্ধমান । একদিকে বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া বিজেপি। অন্যদিকে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে প্রবল চেষ্টা করছে শাসক দল তৃণমূল। কিন্তু তাদের চিন্তার প্রধান প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বহু আগেই মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন তিনি, এরপর বিধায়ক পদ! সর্বশেষে তৃণমূলের সদস্য পদ ত্যাগ করেছেন । বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেও এখনও সেই ইস্তফাপত্র স্বীকার করেন নি বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ইস্তফাপত্রে ভুল রয়েছে৷ তাই ইস্তফাপত্র স্বীকার করা সম্ভব নয়।

অমিত শাহের হাত ধরে মেদিনীপুরের সভা থেকে শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে । রাজ্য জুড়ে তৃণমূল নেতাদের বিশেষ করে শুভেন্দু অনুগামীদের মধ্যে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। দীপালি বিশ্বাস আজই যোগ দেবেন গেরুয়া শিবিরে৷ কপালে গেরুয়া তিলক কেটে বুলেট প্রুফ গাড়িতে চেপে সভাস্থলের দিকে রওনা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

 

 

ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ভয়ে এবার বিদেশের মাটিতে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু পাকিস্তানের

 

এসবিএসটিসির চেয়ারম্যান পদে থাকা তৃণমূল নেতা দীপ্তাংশু চৌধুরীও পদত্যাগ করেন শুভেন্দু দল ছাড়ার পর৷ এর পরেই আসানসোলের দুই কাউন্সিলর অমিত তুলসিয়ান ও অভিজিৎ আচার্য এবং কর্পোরেশনের লিগাল অ্যাডভাইজার রবিউল ইসলাম পদত্যাগপত্র দিয়েছেন৷ বাঁকুড়ায় তৃণমূলের সহ-সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও একই পথের পথিক৷ ওনার সাথে দল ছাড়লেন বাঁকুড়ার ১২ জন তৃণমূল নেতা। শুভেন্দু অধিকারীর পথ অনুসরণ করেছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত, পুরুলিয়ার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা রঘুনাথপুরের পুরপ্রধান ভবেশ চট্টোপাধ্যায়, ডানকুনি তৃণমূলের নেতা তথা পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য দেবাশিস মুখোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম।

অনুব্রত মণ্ডলের জায়গা সিউড়ি। সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণী কর্মাধ্যক্ষ করম হোসেন খান দল ছেড়েছেন৷ মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব বসু, পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূলের সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু আচার্য, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের শিক্ষা, তথ্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ ফিরোজ কামাল গাজি ওরফে বাবু মাস্টার তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়েছেন। কাঁথি উত্তর বিধানসভার বিধায়ক বনশ্রী মাইতি শুভেন্দুর অনুগামী হিসেবে পরিচিত৷ তাই তিনিও তৃণমূল ছেড়েছেন৷ ২১ এর বিধানসভা ভোটের আগে এভাবে দলে ভাঙন অব্যাহত থাকায় বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নেতা নয়, দলের কর্মীরাই দলের সম্পদ।