সম্পত্তির পরিমাণ মুকেশ আম্বানি-বিল গেটস এনার কাছে শিশু, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তির তালিকায় রয়েছেন এমনই একজন

যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয় বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি কে? তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উত্তরে উঠে আসবে বিল গেটস বা জেফ বেজোস। আর যদি বলা হয় ভারতের মধ্যে সবথেকে ধনী ব্যক্তি কে তাহলে উত্তর উঠে আসবে মুকেশ আম্বানি। কিন্তু বর্তমানে এনারা ধনীর তালিকায় শীর্ষে থাকলেও সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি নন। হ্যাঁ কথাটা শুনলে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি এমন একজন রয়েছে যা ধারে কাছে পৌঁছাতে পারবে না বিল গেটস, জেফ বেজোস বা মুকেশ আম্বানি।

এমনকি কোন রাজা ও সম্পত্তির দিক থেকে এর নাগাল নিতে পারেনি। ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুসারে 2018 সালে বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তির জায়গায় ছিলেন অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজোস। এনার মোট সম্পত্তির পরিমাণ 112 বিলিয়ন ডলার।তারপরে দ্বিতীয়স্থানে ছিলেন মাইক্রোসফট এর কর্ণধার বিল গেটস। এনার সম্পত্তির পরিমাণ 90 বিলিয়ন ডলার। আর ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হলেন রিলায়েন্স এর কর্ণধার মুকেশ আম্বানি। এনার মোট সম্পত্তির পরিমাণ 39 বিলিয়ন ডলার।

আর আপনাদের সামনে যার কথা বলবো অর্থাৎ যিনি সর্বকালের ধনী ব্যক্তি ছিলেন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ হল, 400 বিলিয়ন ডলার। এই ধনী ব্যক্তিটির নাম হল মানসা মুসা। আফ্রিকার বর্তমানে গরিব দেশে মালির রাজা ছিলেন তিনি। সম্প্রতি 1312 সালে মালির সিংহাসনে বসেন তিনি। রাজা হওয়ার পরেই নামকরণ করা হয় মানসা মুসা। এর আগে এনার নাম ছিল মুসা কেইটি-1 । এনার জীবনী নিয়ে আমেরিকার ইভানস্টোনে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি তে প্রদর্শনী করা হয়।

এ বিষয়ে ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন যে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এত ছিল যে ভবিষ্যতে তার নাগাল কেও পেত না। কিন্তু আফ্রিকার মালির মত এত গরিব দেশের রাজা কিভাবে ধনী ব্যক্তি হলেন সেই বিষয়ে উঠছে প্রশ্ন। আসুন এবার আমরা জেনে নেই আসল রহস্যটা। এ বিষয়ে ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন যে, এখন যে সময় চলছে তার ঠিক উল্টোটা ছিল তার আমলের পরিস্থিতি। আফ্রিকার ওই ছোট্ট জায়গা মালি তখন প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। এই মাটিতেই ফলতো সোনা। আর এই সময় তাকে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

মানসা মালই রাজা হওয়ার পরেই তিনি এই প্রথম সোনার সন্ধান পান। এরপর তিনি আস্তে আস্তে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন। গিনিয়া, সেনেগাল, বুরকিনা, নাইজেরিয়া সহ আরও অন্যান্য জায়গার উপর আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি। এরপর ইতিহাস বিদদের মতে জানা গিয়েছে যে, 1324 সালে মুসা মক্কা যাত্রা করেন। এই যাত্রায় তার বিশাল সেনাবাহিনীসহ ছিল অফুরন্ত সোনা। এতটা পরিমাণ সোনা ছিল যে শুধুমাত্র সোনা গুলি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য 500 সেনা ছিল।

কয়েক হাজার সোনা, ক্রীতদাস এবং প্রজাদের নিয়ে চার হাজার মাইল পথ এর উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন মুসা। তার যাত্রাপথে বিভিন্ন জায়গায় সোনা দান করেছিলেন তিনি। জানা গেছে তিনি মিশরের কায়রোতে এত সোনা দান করেছিলেন যে সেখানে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল। এবং সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রচুর সময় লেগেছিল। এরপর অবশেষে 1337 সালে মুসা মারা যান। এবং তার পরিবর্তে সিংহাসনে বসেন তার ছেলে মেঘান-1।