সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই সংঘের চাপে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করলেন মণিরুল ইসলাম…

বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মনিরুল ইসলাম দল পরিবর্তন করে যখন বিজেপিতে যোগদান করলেন তারপর থেকেই রাজ্য বিজেপি আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের শিবির সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, মনিরুল ইসলাম বিজেপিতে যোগদান করবে তাদের কাছে এই খবরটাই ছিল।

কিন্তু মুকুল রায় তাকে এত তাড়াতাড়ি দলে নিয়ে চলে আসবে এই খবরটা রাজ্য সভাপতির শিবির জানত না। গত বুধবার দিল্লিতে গিয়ে মনিরুল ইসলাম বিজেপির দলীয় পতাকা হাতে ধরেন। সে ব্যাপারেও দিলীপ ঘোষের কাছে আগাম কোনও খবর ছিল না বলে সংঘকে জানানো হয়েছে। উল্টো দিকে আবার তার দলে যোগদান করা কে নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে যখন অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

তখন মনিরুল মুকুল রায় কে নিজের ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মুকুল রায় অবশ্য বলেছেন এই সমস্ত কিছু আবেগবশত হয়েছে। মনিরুল ইসলাম ইস্তফা দেয় নি। মনিরুলের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে বীরভূম থেকে প্রচুর অভিযোগ অভিযোগ আসছে সঙ্ঘের দফতরের। সঙ্ঘ সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের শীর্ষ প্রচারকরা রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব কে প্রশ্ন করেন, মনিরুল ইসলাম কে দলে আনার পেছনে কারণ কী?

সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গের এক শীর্ষ প্রচারক বলেন,”রাজ্য তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে মনিরুল ইসলাম বিজেপিতে যোগদান করবে। কিন্তু সেটা বুধবারে ঘটবে সেটা তাদের জানা ছিল না। তবে এটা একদম ঠিক যে, মনিরুল ইসলাম এর মত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সংঘের আপত্তি রয়েছে।” বিজেপি সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, মনিরুল ইসলামকে নিয়ে একমাত্র সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুকুল রায় এবং রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় শিবির।

এ বিষয়ে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কোন মতামতই নেওয়া হয়নি বলে খবর পাওয়া গেছে।অপরদিকে আবার বীরভূমে দাপুটে নেতা দুধ কুমার মন্ডল কেমন মনিরুলকে এই পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যাবার কথা বলেছেন। বীরভূমের এই দাপুটে বিজেপি নেতার মতে,”মনিরুল ইসলাম বলে থাকবে কি থাকবে না সেটা দল সিদ্ধান্ত নেবে। দলক এনেছে আমি এই ব্যাপারে কিছুই জানা না।” তবে দুধ কুমার মন্ডল যতই জানি না করুক, বীরভূম জেলা পার্টিতে এ বিষয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। বীরভূমের জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় এই পুরো বিষয়টি নিজের মুখে স্বীকার করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে রামকৃষ্ণ বাবু বলেন,” মনিরুল ইসলামের বিজেপিতে যোগদান করার পরে সারা জেলায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, ওকে দলে টানা উচিত হয়নি।

ওকে দল থেকে বার করে দিতে হবে তা রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং শিব প্রকাশ কে জানানো হয়েছে। তবে এখনও তিনি দল থেকে সম্পূর্ণভাবে পদত্যাগ করেছেন কিনা সে বিষয়ে সম্পূর্ন পরিষ্কারভাবে জানতে পারা যায় নি, তবে সূত্র অনুসারে এই বিষয় নিয়ে যতটা জানতে পারা গেছে তাতে মনিরুলের দল থেকে বহিষ্কার নিশ্চিত।

Related Articles

Close