মমতাকে 5 লক্ষ টাকা জরিমানা, নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সড়ে দাঁড়ালো বিচারপতি কৌশিক চন্দ

নন্দীগ্রামের ভোটের ফলাফল বিষয়ক মামলা থেকে এবার সরে দাঁড়ালেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ । এই মামলাটি তিনি কানে নেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে এই মামলা জন্য ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে যোগদান করেন গেরুয়া শিবিরে। তার পরেই তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের প্রার্থী হন।

শুভেন্দু অধিকারী কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল শিবির থেকে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রার্থী হন। ওই কেন্দ্রে তৃণমূল এবং বিজিপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।ফলাফল বেরোনোর সময় প্রথম জানা যায় যে মুখ্যমন্ত্রী ওখানে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু তারপরে সঠিকভাবে জানা যায় যে মুখ্যমন্ত্রী নন নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর জয়ী হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। বলা হয় তিনি নাকি প্রভাব খাটিয়ে জয়ী হয়েছেন। তাই নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল নিয়ে তৃণমূল সরকার কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এই মামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। বিক্ষোভ দেখায় আইন জীবীদের একাংশ। এছাড়াও এই ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল নেতাদের একাংশও। রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন ওই বিচারপতির দু’টি ছবি টুইট করেছিলেন। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সভায় উপস্থিত থাকতে বিচারপতি চন্দকে। তাই তাঁর এজলাসে এই মামলা চললে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হবেই।

ভারপ্রাপ্ত বিচারপতিকে এই কথা জানানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। গত ২৪ জুন এই মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। ওইদিনই মামলা থেকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়ে কৌশিক চন্দের কাছে ইন্টার লোকেটরি আবেদন করা হয়। ঐদিন মামলার কোনো রায় প্রকাশিত হয়নি। আর আজ বুধবার বিচারপতি এই মামলার বিচারকের আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন।

তবে এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই মামলার জন্য ৫ লক্ষ টাকার জরিমানা চাওয়া হয়। এই ৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে রাজ্যের বার কাউন্সিলে। আর এই টাকা খরচ করা হবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা কার্যে।