কলকাতানতুন খবররাজ্য

সর্বনাশ হয়ে গেল! দুটো জেলা ধ্বংস, সময়ের সাথে সাথে বাড়তে পারে মৃত্যুর সংখ্যাও আমফানের তাণ্ডবের পর ‘স্তম্ভিত’ মুখ্যমন্ত্রী..

একেই করোনা ভাইরাস নিয়ে সারাদেশ চিন্তিত রয়েছে। এর উপরে আবার কথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসল আমফান। এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব আমাদের পশ্চিমবঙ্গে দেখা গেছে। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই 24 পরগনায় আমফানের যে তাণ্ডবলীলা শুরু হয়েছে সেই সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “রাজ্যের সর্বনাশ হয়ে গেল”। গতকাল সন্ধ্যা ছটার সময় উত্তর 24 পরগনায় এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার পর দুই 24 পরগনা তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল এই ঘূর্ণিঝড়।

এই দিন রাত নটার সময় নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার পর প্রথমেই তিনি জানান, ” দুই 24 পরগনা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। বহু বাড়িঘর ভেঙে গেছে, ভেঙে গেছে নদীর বাঁধ এবং ভেসে গেছে ক্ষেত।” তখনো পর্যন্ত 10 থেকে 12 জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে সাংবাদিকদের জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এর পরেও আরো কয়েকটি জেলায় মৃত্যুর খবর এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন নবান্নের কন্ট্রোল রুমে বসে সারাদিন ধরে ঝড়ের গতি প্রকৃতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঝড়ে কতটা পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানতে এখনো পর্যন্ত তিন থেকে চার দিন সময় লাগবে বলে জানা গিয়েছে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ” আমরা একদিনের মধ্যে প্রায় 5 লক্ষ মানুষকে তাদের জায়গা থেকে সরিয়ে নিতে পেরেছি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ  কিছুটা কমানো গেছে। আমি যখন নবান্নের কন্ট্রোল রুমে বসে পরিস্থিতির মোকাবিলা করছিলাম তখন অফিস কাঁপছিল এতটা পরিমাণ ঝড় হচ্ছিল। “

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো জানান যে, ” নন্দীগ্রাম, রামনগর সহ একাধিক জায়গায় বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই ঝড়ের ফলে। এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনায় বহু মানুষ গাছ পড়ে মারা গেছেন। তবে রাজ্যে মোট কতটা পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেই সম্পর্কে এখনো কিছু গণনা করা যায়নি। রাজ্যের বহু জায়গায় এখনও পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই, জল নেই। এই সমস্ত এলাকা গুলো ছাড়াও, কাকদ্বীপ, সোনারপুর, বারুইপুর এই সমস্ত জায়গা গুলোতেও আরফান প্রভাব ফেলেছে।
এইদিন নবান্নের এই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী যে বিষয়গুলো তুলে ধরেন সেগুলো নিম্নরূপ- দক্ষিণবঙ্গ এই ঝড়ের জেরে প্রায় 99% শেষ হয়ে গিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব এতটা পরিমাণে পড়েছে যে যার ফল দেখে আমরা পর্যন্ত চমকে উঠেছি।তাই এরকম এক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কাছে আবেদন থাকবে আমার, পলিটিক্যাল দেখবেন না এই পরিস্থিতিকে মানবিকভাবে দেখবেন। তবে এই ঝড় দিঘাতে তেমন প্রভাব না ফেললেও রাজারহাট,গোসাবা, বনগাঁ, সন্দেশখালি, বাগদা, হাবড়া এর চারিদিকে সর্বনাশ করে দিয়েছে।

ছবি সংগৃহীত “আনন্দবাজার পত্রিকা”

এক্ষেত্রে আপাতত কয়েক হাজার টাকার ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও সেটি সময় বাড়ার সাথে সাথে লাখে পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আপাতত এই ঝড়ের জেরে 10 থেকে 12 জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে গোটা ধ্বংসের চিত্র বুঝতে 10 থেকে 12 দিন সময় লেগে যাবে এক্ষেত্রে একদিনে কিছুই বোঝা যাবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button