স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঋণ অনুমোদন নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতার, এবার থেকে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড তৈরির ঘোষণা করেছিলেন অনেকদিন আগেই। এবার স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঋণ অনুমোদন করার জন্য বিশেষ শিবিরের আয়োজন করতে চলেছে রাজ্য। ২০ নভেম্বর কলকাতাসহ রাজ্যের সমস্ত জেলায় মহকুমা স্তরে এই শিবিরের আয়োজন করা হবে। এই শিবির চলবে সকাল ১১ টা থেকে বেলা ৩ তে পর্যন্ত।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে, যার জন্য সরকারের ঋণের পরিমাণ হতে পারে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি পর্যন্ত। উপসচিব হরেকৃষ্ণ ত্রিবেদী আগামী ২০ তারিখ বেলা তিনটে নাগাদ সমস্ত জেলা শাসক এবং ব্যাংকের উচ্চ পদাধিকারী অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে বলেছিলেন, আগামী বছর ১ জানুয়ারি দিনটি শিক্ষার্থী দিবস হিসেবে পালন করা হবে। এই দিন ১০ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রীকে দেওয়া হবে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা। আগামী বছরের এই দিনের কথা মাথায় রেখে আগামী ২০ তারিখ কলকাতা শহর রাজ্যজুড়ে খোলা হবে শিবির।

পরিকল্পনামাফিক ছাত্রছাত্রীরা রাজ্য সমবায় ব্যাংক, রাজ্যের অনুমোদিত কেন্দ্রীয় এবং জেলা সমবায় ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংক থেকে এই সুযোগ সুবিধা পাবে। এই ক্রেডিট কার্ড এর দ্বারা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ এর সুযোগ সুবিধা পাবে ছাত্র-ছাত্রীরা। যিনি ঋণ নেবেন, তিনি কেবল মাত্র ৪% সুদ দেবেন, সুদের বাকি অংক দেবে রাজ্য সরকার।

মহিলাদের জন্য রয়েছে আরও বড় একটি ছাড়। সুদের উপর অতিরিক্ত ৫০ বেসিস পয়েন্ট ছাড় পাবেন প্রত্যেক মহিলা। এই ১০ লক্ষ টাকা একেবারে না নিয়ে ধাপে ধাপে নিতে পারবেন ছাত্রছাত্রীরা। অনলাইনে এই ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪ লক্ষ টাকা সুদ নিতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। ৪ লাখ নেয়ার জন্য ব্যাংকে এককালীন কোন টাকা দিতে হবে না। তবে এর বেশি টাকা নিতে গেলে সেই টাকার উপর ৫% মার্জিন মানি দিতে হবে।

ঋণ নেওয়ার জন্য কোন অতিরিক্ত শর্ত চাপাতে পারবে না ব্যাংক। সরকার এই ঋণের গ্যারান্টার হবে। ব্যাংক পড়ুয়ার অভিভাবকদের কোন ভাবে চাপ দিতে পারবে না। ১৫ বছরের মধ্যে এই টাকা মেটাতে হবে।