বন্ধুর জীবন বাঁচাতে মহেন্দ্র সিং ধোনি বুক করে ফেলেছিলেন হেলিকপ্টার, পেশ করেছিলেন বন্ধুত্বের উদারতার উদাহরণ

ভারতীয় দলে এমন অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছেন যারা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স- এর মাধ্যমে শুধুমাত্র ক্রিকেট জগতে নিজের নাম আলোকিত করেছেন তা নয়, বিশ্বে ভারতের নাম আলোকিত করেছেন তারা। তবে খেলার মাঠে ভালো পারফর্মেন্স করার পাশাপাশি তারা প্রত্যেকে একজন ভালো মানুষ নিজের ব্যক্তিগত জীবনে। আজ ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যক্তিগত জীবনের এমন একটি ঘটনার কথা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব যার ফলে আপনি আরো একবার সম্মানে মাথা নত করে দেবেন।

মহেন্দ্র সিং ধোনি একজন অসাধারণ খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আপনি যদি মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি দেখে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি জানেন যে মাহি তার প্রিয় হেলিকপ্টার শটটি সন্তোষ লালের কাছ থেকে শিখে ছিলেন। সন্তোষ এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন এবং একসঙ্গে অনুশীলন করতেন।

সন্তোষ লাল হেলিকপ্টার শট নামে এমন একটি খেলা খেলতে যা তিনি পরবর্তীকালে ধোনিকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এই হেলিকপ্টার শটের সাহায্যে ধ্বনি অনে ক্রিকেট ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন এবং দলের হয়ে প্রচুর রান অর্জন করেছিলেন।

২০১৩ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির বন্ধু এই সন্তোষ লালের হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং অবিলম্বে তাকে ভর্তি করানো হয় দিল্লির এইমস হাসপাতাল। সেই সময় সন্তোষের পরিবার এবং অন্যান্য বন্ধুরা মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছ থেকে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ধোনি সেই সময় ভারতের বাইরে ক্রিকেট খেলেছিলেন।

যদিও বন্ধুর শারীরিক অবস্থার অবনতি কথা শুনে কালবিলম্ব দেরি না করে তিনি একটি হেলিকপ্টার বুক করেছিলেন এবং বন্ধুকে রাঁচি থেকে দিল্লিতে আনার সমস্ত ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার দিল্লির এইমস হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এর সঙ্গে কথা বলে বন্ধুকে সেখানে ভর্তি সুপারিশ করেছিলেন যাতে অবিলম্বে জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে পারে সন্তোষ।

এত কিছু করার পরেও দুর্ভাগ্যবশত সন্তোষ হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে অগ্নাশয় সংক্রমণের কারণে একটি গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন সন্তোষ, সঠিক চিকিৎসা পেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সময় অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। তবে মহেন্দ্র সিং ধোনি দেশের বাইরে থাকাকালীনও যেভাবে নিজের কর্তব্য পালন করেছিলেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।