আফগানিস্তানে আটকে পড়েছিল ভারতীয় দূতাবাসের প্রচুর কর্মী , জীবন সংকটে রেখে উদ্ধারের কাজ সফল করল ভারতীয় বায়ুসেনা

বর্তমানে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ভীষণ সঙ্কটজনক। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে আফগানিস্তানে তালিবানদের ভয়ানক অত্যাচার। প্রাণপণ পালিয়ে বাঁচতে চাইছে আফগানি বাসিন্দারা। মাত্র দুই দিনের শাসনে তঠস্ত মানুষজন। মহিলাদের জন্য যে সব নিয়ম তালিবানরা এনেছেন তা এক একটি ভয়ানক নিয়ম। গোটা আফগানিস্তান তারা দখল করার পরে বাদ পড়েনি বিমান চলাচল। বিমান চলাচল রীতিমত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে।

কিন্তু তারই মধ্যে থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি বিমান আফগানিস্তানের ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীদের উদ্ধারের জন্য মঙ্গলবার সকালে কবুল থেকে তারা দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, ভারতীয় নাগরিকদের সেখান থেকে উদ্ধার করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেখানেও হানা দিয়ে কড়া নজরদারি করছিল তালিবানি জঙ্গিরা।

ভারতীয় দূতাবাসের হাই সিকিউরিটি গ্রিন জোনে পর্যন্ত তালিবানরা পৌঁছে গেছিল। গত ১৫ এবং ১৬ তারিখ রাতে সুরক্ষা ব্যবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছিল। তালিবানরা পৌঁছে গেছিল আফগানিস্তানের নাগরিকের শাহির ভিসা এজেন্সিতে। যেখান থেকে আফগানি নাগরিকরা ভারতে আসার ভিসা নিত। সেখানেও তালিবানরা পৌঁছে তল্লাশি চালিয়েছে।

ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম বিমানটি ভারতীয় কর্মী মোট ৪৫ জনকে নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন। তবে খুব একটা সহজ কাজ ছিল না তালিবানদের চোখ এড়িয়ে দেশে নিয়ে আসা। ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীদের বিমানবন্দরের রাস্তায় মাঝ পথে আটকে দিয়েছিল তালিবানরা। ভারতীয় কর্মীদের ব্যাক্তিগত কিছু জিনিষ জোর করে ছিনিয়ে নেয় তালিবানরা।

তবে প্রথম বিমান সমস্ত কর্মীদের উদ্ধার করতে পারেনি। যেহেতু এয়ারপোর্ট বন্ধ ছিল ও সেখানে আফগানিস্তানের মানুষজন ভিড় করেছিল তাই প্রথম বিমান আসার পরে আর কাউকে উদ্ধার করা যায়নি সেই মুহূর্তে। তবে পরে আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী ও ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সাথে কথোপকথনের পর তাদের সাহায্যে ভারতীয় কর্মীরা পৌঁছাতে পেরেছিলেন বিমানবন্দরে।

এই মুহুর্তে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক ও গোটা বিদেশ মন্ত্রালয় জানিয়েছে তারা আফগানিস্তানের উপর কড়া নজরদারি রেখেছেন। দিন দিন কাবুলের পরিস্থিতি ভীষণ খারাপ এর দিকে যাচ্ছে। মন্ত্রালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী নিজের ফোন নম্বর ও মেইল আইডি দিয়েছেন সাহায্যের জন্য।