ল্যাঙ্গুরের মাথায় আটকে গিয়েছিল ঘটি, সাহায্যের জন্য ৩ দিন ধরে দৌড়ে বেড়ালো মা

এই জগতে সবথেকে বড় যোদ্ধা হল মা। একজন মা যা পারেন আর অন্য কেউ তা কোনদিন করে উঠতে পারেন না। পৃথিবীতে ঈশ্বর সরাসরি আসতে পারেন না বলে তিনি মা তৈরি করেছেন। জন্মের প্রথম দিন থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা সুখে দুঃখে আদরে ভালোবাসা সব সময় মা শব্দটি উচ্চারণ করি। এই মা শুধুমাত্র মানুষের ক্ষেত্রে নয় সমস্ত পশুপাখির ক্ষেত্রে সমান ভাবেই যোদ্ধা।

আজ এমনই একজন মা এবং তার সন্তানের ভালোবাসার কথা আপনাদের জানাবো। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ভিডিও ভাইরাল হয় যা আমাদের চোখে পড়ে। এই ভিডিওর মধ্যে কোন ভিডিও আমাদের ভালো লাগে কোন ভিডিও আবার আমাদের চোখের জল নিয়ে চলে আসে। তেমনই একটি ভিডিও ছত্রিশগড়ের ধামটারি জেলার ভিডিও। তিনদিন আগে নাগরী ব্লকের বনদপ্তরের অন্ধকূপে একদল ল্যাঙ্গুরের জেলে জল খেতে। জেল চত্বরে কর্মরত বনকর্মীরা প্রচুর জল রেখে দিয়েছিল গরমের জন্য।

সেই পাত্র থেকে জল খেতে গিয়ে একটি ছোট্ট ল্যাঙ্গুরের মাথায় সেই পাত্রটি আটকে যায়। হাজার চেষ্টা করে তার মাথা থেকে সেই পাত্রটি আলাদা করা যায় না। শিশু ল্যাঙ্গুরকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মা তার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। এইভাবে তৃষ্ণার্ত এবং ক্ষুধার্ত হয়ে থাকে সেই ছোট্ট ল্যাঙ্গুর। তিনদিন পরে আপনা আপনি সেই পাত্রটি সরে যায় ছোট্ট ল্যাঙ্গুরের মাথা থেকে। প্রথমে কিছুটা অসুস্থ হলেও এখন সেই ছোট্ট ল্যাঙ্গুর ভালো আছে বলে জানা গেছে। যতক্ষণ সেই ছোট্ট শিশুটি আটকে থাকে ওই পাত্রের মধ্যে, ততক্ষণ মা এবং সম্পূর্ণ ল্যাঙ্গুর দল চিৎকার করতে থাকে।

বনকর্মীদের তরফ থেকে তাদের বিস্কুট খাওয়ানো হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ছোট্ট ল্যাঙ্গুরের কাছ থেকে সরানো যায়নি কাউকে। এইভাবে টানা তিনদিন একইভাবে সেই মা তার সন্তানকে আগলে ধরে বসে ছিল। অস্থিরতা এবং চিন্তার মধ্যে তিন দিন কেটে যাওয়ার পর অবশেষে সৌভাগ্যক্রমে ছোট্ট ল্যাঙ্গুর বন্দিদশা থেকে মুক্তি পায় এবং হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন বনকর্মীরা।