লকডাউনের জন্য অর্থনীতির ক্ষতি হবে কিন্তু এখন সবচেয়ে দামি ভারতীয়দের প্রাণঃ প্রধানমন্ত্রী মোদি

আজ সকালে ফের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের জেরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার কথা তুলে ধরেন,এবং এর পাশাপাশি যে 21 দিনের লকডাউন আজকে শেষ হবার কথা ছিল সেই লকডাউন কে আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং আগামী মে মাসের 3 তারিখ পর্যন্ত সেই লকডাউন কে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন।এর পাশাপাশি দেশের সকল মানুষকে এই লকডাউন এর সময় যেসব অনুশাসন গুলি চলছে সে গুলোকে মেনে চলার পরামর্শ দেন। তবে এই লকডাউনের জেরে বাজারে যে আর্থিক মন্দা যে আসবে তার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন আর্থিক দিক থেকে আমাদের এখন অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে কিন্তু আমাদের কাছে এখন দেশবাসীর প্রাণ অনেক বেশি দামি এই আর্থিক মন্দার তুলনায়।যেমনটা আমরা দেখতে পাচ্ছি লকডাউনের জেরে দেশের ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে আছে, আর এই লকডাউন এর প্রভাব যদি এখন সবচেয়ে বেশি পড়ছে তাহলে সেটি হল দিনমজুরদের ওপর যারা দিন আনে দিন খায় তাদের উপর এই লকডাউন এর প্রভাব অনেকখানি পড়েছে।

তবে আজকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান দ্বিতীয় দফার এই লকডাউন আগামী 20 ই এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষভাবে নজরদারি রাখা হবে রাজ্যের সমস্ত জেলাগুলি ওপর। আর আগামী কুড়ি এপ্রিল এরপর সে জেলায় বা রাজ্যে করোনা সংক্রমণের হার দেখে কিছু কিছু এলাকায় ছাড় দেওয়া হতে পারে এমনটাও তিনি ইঙ্গিত করেন এই বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন আমার সমস্ত দেশবাসীর কাছে প্রার্থনা হল এই করোনা মহামারীকে আমরা কোন মতেই নতুন এলাকায় ছড়িয়ে যেতে দেব না।

আর যদি স্থানীয় স্তরেও এখন একজন রোগীর সংখ্যা বাড়ে তাহলে সেটা আমাদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। যার দরুন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী বলেন এর জন্য আমাদের হটস্পট এলাকাগুলো নিয়ে আরও সতর্ক ভাবে থাকতে হবে যে স্থানগুলিতে হটস্পট বদলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে সে এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি রাখা হবে। চেষ্টা করতে হবে নতুন করে যাতে হটস্পট তৈরি না হয় নাহলে আমাদের আরো অনেক খানি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান আগামী আরো এক সপ্তাহে করোনা বিরুদ্ধে যে লড়াই রয়েছে সেটি আরও কঠোর ভাবে করা হবে।আর আগামী কুড়ি এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিটি গ্রাম গঞ্জে, প্রতিটি থানা, প্রতিটি জেলা, প্রতিটি রাজ্যে কেমন ভাবে লকডাউন পালিত হল আর সেই এলাকায় করোনা থেকে কেমন ভাবে নিজেদের বাঁচানো গেল সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।আর যেসব এলাকা গুলি এই অগ্নি পরীক্ষায় সফল হয়ে উঠবে তারা এই করোনা মোকাবেলায় হটস্পট এর মধ্যে পড়বে না, যার ফলে সে এলাকাগুলিতে আগামী কুড়ি এপ্রিল এরপর থেকে কিছু গতিবিধির অনুমতি দেওয়া হবে।

তারই সাথে সকল মানুষকে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স (social distance) মেনে চলার পাশাপাশি আরোগ্য সেতু (Arogya Setu) নামক মোবাইল অ্যাপটি ডাউনলোড করার পরামর্শ দিলেন এই দিন তিনি। অন্যদিকে যেহেতু এই সময়টি হল রবি ফসল কাটার সময় সেহেতু কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার মিলে কৃষকদের ওপর বিশেষভাবে ধ্যান দেবে একথা জানান নিজের বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।