COVID-19 এর জেরে একাধিক রাজ্যে জারি লকডাউন ও কারফিউ, দেখুন সম্পূর্ণ তালিকা

করোনার প্রথম সংক্রমনের থেকেও দ্বিতীয় সংক্রমণ আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভারতবর্ষে এখনই দিনে প্রায় আড়াই লাখের বেশি মানুষ এই মরণ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। করোনাকে রোধ করার জন্য বহু রাজ্য লকডাউনের পথ বেছে নিয়েছে। এবার দেখে নেওয়া যাক ভারতের কোন কোন রাজ্য করোনার বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

কর্ণাটক–

রাজ্যপালের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষ হওয়ার পরে কর্ণাটক সরকার নাইট কারফিউর পথে এগিয়েছেন। নাইট কারফিউ তে বলা হয়েছে রাত ৯টা থেকে পর দিন ৬টা পর্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় কাজ ছাড়া কেউ বাইরে বেরোতে পারবেন না। ২১ এপ্রিল থেকে আগামী ৪ মে পর্যন্ত নাইট কারফিউ কার্যকর হবে। আবার এর পাশাপাশি বেঙ্গালুরু, মায়সোর, মেঙ্গালোর, কালাবুরগি, বিদর, তুমকুর এবং উদুপি-মণিপালে রাত ১০টা থেকে পর দিন সকাল ৫টা পর্যন্ত নাইট কারফিউ জারি হয়েছে।

দিল্লি–

দিল্লিতে করোনা সংক্রমনের গতি তীব্র রয়েছে। তাই করোনাকে রোধ করার জন্য দিল্লির কেজরিওয়াল সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং উপ-রাজ্যপাল অনিল বৈজলের মধ্যে বৈঠকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাঁরা। সাত দিনের জন্য লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউন চলবে আগামী ২৬ এপ্রিল সকাল ৫টা অবধি। লকডাউনে কি কি ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ওষুধ, মুদি, ফলমূল ও শাকসবজি, দুধ, মাংস ও মাছ বিক্রেতাদের ই-পাস দেওয়া হবে। ব্যাঙ্ক, টেলিকম / ইন্টারনেট পরিষেবা, প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ, পেট্রোল পাম্পে কর্মরত অথবা যাঁরা টিকাকরণে যুক্ত, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে।

মহারাষ্ট্র–

মহারাষ্ট্রের কোভিদড পরিস্থিতি খুব উদ্বেগজনক। কভিডের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় মহারাষ্ট্রে আইসিইউর বেড এবং মেডিক্যাল অক্সিজেনের দ্রুত ঘাটতি দেখা গেছে। ১৪ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত ওই রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়েছে। মানুষের জমায়েত কমানোর জন্য সারা রাজ্যে সিআরপিসির ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। এই লকডাউনকালে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া কোনো কিছুতেই ছাড় দেওয়া হয়নি।

উত্তরপ্রদেশ–

আগামীকাল সোমবার অর্থাৎ ২০ এপ্রিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এলাহাবাদ, লখনউ, বারাণসি, কানপুর শহর এবং গোরখপুরকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন করার নির্দেশ দিয়েছে।‌ তবে ওই রাজ্যের সরকার হাইকোর্টের নির্দেশ কে অবমাননা করে বলেছে “এখনই কোনো শহরে সম্পূর্ণ লকডাউন চাপিয়ে দেওয়া হবে না।” তবে এর আগে এই সরকার করোনার সংক্রমণকে রোধ করার জন্য শনিবার রাত ৮ টা থেকে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৩৫ ঘণ্টার কারফিউ জারির কথা ঘোষণা করেছিল।

কেরল–

কেরল সরকার প্রথমে করোনার সংক্রমণকে রোধ করার জন্য নাইট কারফিউ এর পথে হাঁটতে থাকে। ঠিক তার একদিন পর, অর্থাৎ মঙ্গলবার কেরল সরকার এরনাকুলাম জেলার সমস্ত কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে সম্পূর্ণ লকডাউনের কথা ঘোষণা করে। লকডাউন কার্যকর করা হয় বুধবার সকাল ৭টা থেকে। চলবে সাত দিনের জন্য।

পাঞ্জাব–

করোনা ভাইরাসকে রোধ করার জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে নাইট কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জাব রাজ্য সরকার। কোচিং সেন্টার, জিম, বার এবং সিনেমা হল গুলি ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।