রাজ্যজুড়ে সোমবার থেকে বন্ধ এই জায়গাগুলিতে, বলপূর্বক আইন ভাঙলে নেওয়া হবে জামিন অযোগ্য ব্যবস্থা…

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। পশ্চিমবঙ্গেও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সরকার তাদের তরফ থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে এই ভাইরাস ঠেকানো যায়। এছাড়াও দেশের সমস্ত মানুষ এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকার জন্য যতটা সম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এমন একটি পরিস্থিতিতে নবান্ন তরফ থেকে পশ্চিমবাংলা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা করা হয় 23 শে মার্চ অর্থাৎ সোমবার বিকেল 5 টা থেকে 27 মার্চ রাত 12 টা পর্যন্ত গ্রাম এবং শহরের বেশ কিছু পরিষেবা বন্ধ রাখতে হবে।

অর্থাৎ এক কথায় লকডাউন এর সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। 1897 সালে মহামারী রোগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য 7 নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। লকডাউন হলে এলাকায় কোন বাস,ট্যাক্সি ও গণপরিবহন চলবে না। চলবে শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার গাড়ির যেমন এম্বুলেন্স। এছাড়া বন্ধ থাকবে সমস্ত রকম কারখানা এবং দোকানপাট।বিদেশ থেকে আসা সমস্ত যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এই সময়ের সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুবই জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া বাইরে বেরোনো যাবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এই বিধি-নিষেধ আজ বিকেল চারটার পর থেকে চালু হচ্ছে যে সমস্ত জায়গায় তার নাম গুলি নিচে উল্লেখ করা হল – পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার এর সদর শহর, জলপাইগুড়ি জেলার সদর শহর, কালিম্পং জেলার সদর শহর, আলিপুরদুয়ারের সদর শহর, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, শিলিগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুরের সদর শহর, উত্তর দিনাজপুরের সমস্ত জায়গা, মালদার সমস্ত জায়গা, মুর্শিদাবাদের সমস্ত জায়গা, নদীয়ার সমস্ত জায়গা, বীরভূমের সব পৌরসভা, কালনা, কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর, পশ্চিম বর্ধমান,পুরুলিয়ার সদর শহর, বড়জোড়া, বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়ার সদর শহর, পূর্ব মেদিনীপুর সদর শহর, হলদিয়া, দিঘা, কাঁথি, কোলাঘাট, হাওড়ার সমস্ত জায়গা, হুগলির সমস্ত জায়গা, চন্দননগর, উত্তরপাড়া, কোন্নগর, আরামবাগ, শ্রীরামপুর, দক্ষিণ 24 পরগনার ডায়মন হারবার, ভাঙ্গড়, ক্যানিং, সোনারপুর, বারুইপুর, মহেশতলা, বজ বজ, উত্তর 24 পরগনার সল্টলেক, নিউটাউন, এবং অন্যান্য পৌরসভা এলাকা ও কলকাতা সমস্ত কর্পোরেশন এলাকা।

তবে বাকি সমস্ত রকম পরিষেবা বন্ধ থাকলেও চালু থাকছে, থানা, আদালত, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সংশোধনাগার, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা পরিষেবা, ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা, ব্যাংক, এটিএম, মুদিখানার দোকান, ওষুধের দোকান, শাক সবজির দোকান, ইলেকট্রিকের দোকান, প্রিন্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার পরিষেবা সব সময় পাওয়া যাবে। আর এই আইন চলাকালীন কোন জায়গায় 7 জনের বেশি ব্যক্তি এক জায়গায় বসে গল্প করা যাবে না।

যদি এমনটা দেখা যায় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর আইন অনুযায়ী জোর পূর্বক যদি কেউ লকডাউন এর নীতি অমান্য করে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির 188,269,270,271 ধারায় মামলা দায়ের করা হবে। এক্ষেত্রে সরকারী নির্দেশ অমান্য করলে প্রযোজ্য করা হবে 188 ধারা। সংক্রমণ ব্যাধি ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে 269 ধারা যা জামিন অযোগ্য,আর অন্যদিকে 270 ধারাও কিন্তু জামিন অযোগ্য জীবনের পক্ষে বিপদজনক এমন সংক্রমণ ব্যাধি ছড়ানোয় এই ধারা প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। আর সবশেষে 271 ধারাটি তখনই প্রয়োগ করা হবে যখন কেউ কোয়ারেন্টাইন এর আইন ভাঙবে।

More Stories
দেশে সবচেয়ে বড় ক্যান্সার হসপিটাল করতে চলেছে মোদির সরকার, মাত্র 10 টাকায় মিলবে ক্যান্সার নিরাময়ের চিকিৎসা।