“মেক ইন ইন্ডিয়া”র হাত ধরে ভারতে ফের ফিরে আসছে ৫০ বছরের পুরনো কোম্পানি LML, তৈরি করছে ইলেকট্রিক টু হুইলার

এক সময় ভারতের মধ্যবিত্তদের ঘরে ঘরে এলএমএল স্কুটার দেখা যেত। অতীতে বাজাজ চেতক কে জোর টক্কর দিয়েছিল এই এলএমএল স্কুটারই। এর আগে ভারতের সিম্পল ভ্যান এবং ওলা যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। এবার এই একই পথ ধরে ইন্ডিয়ান মার্কেটে এন্ট্রি নিতে চলেছে ইলেকট্রিক টু হুইলার। ভারতের বাজারে আশা করা যাচ্ছে এটি একটি শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে । বর্তমানে কোম্পানির এই প্রজেক্টটি জোট বাধতে চলেছে “মেক ইন ইন্ডিয়া” সাথে।এলএমএল (LML) ভারতের একটি অত্যন্ত পুরনো কোম্পানি। অতীতে দু’চাকার সেগমেন্টে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল এই কোম্পানিটি । বস্তুত বলা যায় বহুদিন পর আবার ফিরে আসছে কোম্পানিটি। সুতরাং নতুনভাবে কোম্পানিটি ভারতে মেক ইন ইন্ডিয়ার হাত ধরে ফিরে আসায় একটি খুশির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যান্য কোম্পানিগুলো তাদের দুই চাকার গাড়িতে ব্যবহৃত উপাদান গুলির তালিকা প্রকাশ করে থাকে। উল্লেখ্য ২০১৫ সালে প্রথম টাটা আল্ট্রাভোল্ড অটোমোটিভ চালু হয়। এটি ভারতে প্রথম ব্যাঙ্গালুরুতে ইলেকট্রিক সুপার বাইক চালু করার জন্য একটি ম্যানুফ্যাকচারিং সেটআপ করে।এর জন্য বিনিয়োগে লেগেছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই কোম্পানি একমাত্র বলেছিলেন যে তাদের বাইকে প্রায় ৯০ শতাংশ লোকালাইজেশন থাকবে। এই ধরনের বাইক তৈরি করতে যে সমস্ত উপাদানের প্রয়োজন হয় তার মধ্যে শুধুমাত্র ব্যাটারীতে যে উপাদান লাগে লিথিয়াম সেল এবং মোটরের চুম্বক এই দুটি উপাদান ভারতের বাইরে থেকে আমদানি করা হবে। এছাড়া বাইক তৈরি করার জন্য বাদবাকি যে সমস্ত উপাদানগুলি লাগবে তার জন্য বাইরে থেকে কিছু আমদানি করার প্রয়োজন পড়বে না ।সাধারণত তা স্থানীয়ভাবে তৈরী করা যাবে । যন্ত্রপাতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান উপাদান যেমন মোটর কন্ট্রোলার এর জন্য ব্যাটারি ,প্যাক ইত্যাদি স্থানীয়ভাবে তৈরী করা যাবে।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আশা করা যাচ্ছে ২০২২ সাল থেকেই এই সুবিধা চালু হতে চলেছে ।প্রথম বছর কর্মসূচিতে কোম্পানির তরফ থেকে বলা হচ্ছে প্রায় ১৫,০০০ বাইক তৈরি করা হবে। প্রথম বছরে বাইক উৎপাদন হবার পর বাজারে তার চাহিদা কিরকম হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে পরবর্তীকালে উৎপাদন বাড়ানো হবে। আশা করা যাচ্ছে পরবর্তীকালে বাজারে চাহিদা যদি ভাল থাকে তাহলে , পরবর্তীকালে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে তা প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ইউনিট করা হবে।

এই কোম্পানির বাইক মডেল F77 হল একটি সুপার বাইক মডেল এটির গতিবেগ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিমি। এছাড়া বাইকটি সম্পূর্ণ চার্জের পরিপেক্ষিতে প্রায় ঘন্টায় ১৫০ কিমি রান করতে পারবে। বর্তমানে আশা করা যাচ্ছে এলএমএল এর লঞ্চ করা নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার ভারতীয় বাজারে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করবে। কোম্পানির কর্মকর্তাদের মতে নতুন লঞ্চ হওয়া এই ইলেকট্রিক স্কুটার টি তার পরিসীমা এবং দামের দিক থেকে ভারতীয় বাজারে একটি নতুন মানদণ্ডের সৃষ্টি করবে। সিম্পল ওয়ান এবং ওলা এর মত প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে এই স্কুটারটির তৈরি হবে। মেক ইন ইন্ডিয়া ক্ষেত্রে এই নতুন স্কুটার টি অন্যতম জায়গা করে নেবে ।বাজারে অন্যান্য কোম্পানির গাড়ির সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে প্রস্তুত এই নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার।

বর্তমানে এই নতুন প্রজেক্ট কাজের জন্য ভারতীয় নির্মাতাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে কোম্পানির কর্মকর্তারা । মূলত ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়েছিল এই কোম্পানিটি ।১৯৯সাল পর্যন্ত এই কোম্পানিটি পিয়াজিওর অংশীদারিত্বে একসাথে পথ চলেছিল। পূর্বে এই কোম্পানিটি ভারতের বাজারে বিভিন্ন রকমের মোটরসাইকেলের ভেরিয়েন্ট চালু করেছিল ।কিন্তু তৎকালীন সময়ে বাজারে লোকসানের মুখ দেখার ফলে সেভাবে সাড়া ফেলতে পারিনি। তবে বর্তমানে পুনরায় স্বমহিমায় এমএলএল ফিরে আসছে ইন্ডিয়ান মার্কেটে। এখন দেখার বিষয় কতটা সাফল্য পেতে পারে এই কোম্পানি তাদের নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ এর মাধ্যমে ।