আপনারা কী জানেন রানী লক্ষ্মীবাঈ এর মৃত্যুর পর ওনার ছেলের সাথে কী করেছিল ইংরেজরা…

রানী লক্ষ্মীবাঈ এর নিয়ে তো আপনারা অনেক কথায় শুনেছেন, এছাড়াও তার জীবনকাহিনী নিয়ে কমবেশি আপনারা সকলেই জানেন, আপনারা অবশ্যই জেনে থাকবেন যে রানী লক্ষ্মীবাঈ একটি পুত্রকে দত্তক নিয়েছিল আর তার নাম ছিল দামোদর রাও।কিন্তু যখন দামোদর রাও এর মা রানী লক্ষ্মীবাঈ এর মৃত্যু হয় তখন রানী লক্ষ্মীবাঈ এর কিছু বিশ্বস্ত ব্যক্তি তার ছেলে দামোদর রাও কে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন।

সেই সময় তাদের কাছে কিছু টাকা ছিল কিন্তু তারা যখন পাশের গ্রামটিতে আশ্রয় নিতে গিয়েছিল সেই সময় সেই গ্রামের মুখ্য ব্যক্তি সেখানে থাকার বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল এবং বিনিময়ে তাদের খাওয়ার আর থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। একসময় তাদের সব টাকা শেষ হয়ে গেল তখন তারা এদিক-ওদিক যাযাবরের মত ঘুরে বেড়াতে লাগলো এবং অবশেষে জঙ্গলে থাকতে লাগল। খাবার মত তাদের কাছে ফল ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

এরকম অবস্থায় তারা সকলেই খুব কষ্টের মধ্যে ছিল যদিও দামোদর রাওকে বেশি কষ্টের মধ্যে থাকতে হয়নি কারণ সে তখন খুবই ছোট ছিল। যাযাবরের মতো ঘুরতে ঘুরতে ক্রমে তিন বছর কেটে গেল এবার লক্ষ্মীবাঈ এর একটি সহকারি ইংরেজদের কাছ থেকে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা কথা বললো এবং এও বললো, দামোদর রাও রানী লক্ষ্মীবাঈ এর একমাত্র সন্তান সে অনুযায়ী তাকে কিছুটা হলেও সাহায্য দেওয়া উচিত। যে ইংরেজ অফিসারটি সহকারীর কথাটি শুনেছিল তিনি খুবই দয়ালু প্রকৃতির ব্যক্তি ছিলেন তাই তিনি বার্ষিক ৫০০০ টাকা দামোদর রাও কে পেনশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এই বার্ষিক ৫০০০ টাকা দিয়েই দামোদর নিজের জীবন যাপন করে। এছাড়াও তিনি বিয়ে করেছেন এবং তার একটি পুত্র সন্তানও আছে। তাদের বংশধরেরা এখনো ঝাঁসি এবং ভোপাল এর নিকটবর্তী এলাকায় বাস করে।