খালি পায়ে কলেজ যাত্রা থেকে শুরু করে আজ ইসরোর চেয়ারম্যন, শিবনের জীবনযুদ্ধ অনুপ্রেরণা দেবে সকল যুবসমাজকে..

বর্তমানে তিনি এখন ইসরোর চেয়ারম্যান, ভারতের মহাকাশ গবেষণার এক অভূতপূর্ব সাফল্যের অন্যতম কারিগর হিসেবে পরিচিত তিনি এখন।গবেষণার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে চাঁদের একেবারে কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর্যন্ত এই সবকিছুর পিছনে রয়েছে ডঃকৈলাসাভাদিভো শিবনের প্রখর মস্তিষ্ক। একদিকে রয়েছে রাজনৈতিক চাপ তো অন্যদিকে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুই দিকে সমান তাল মিলিয়ে নিজের মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহার করেছেন তিনি।

আর যেভাবে তিনি চন্দ্রযান মিশনে 95 শতকরা সফল দিয়েছেন সেটাও খুব একটা কম কথা নয়। তার এই কাজের জন্য সত্যিই তিনি প্রশংসার প্রাপ্য।‌ তবে লড়াইটা তিনি এখন শুরু করেন নি লড়াই করা তিনি ছোটবেলা থেকেই শিখে এসেছেন।আপনাদের বলে রাখি স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ জীবন পর্যন্ত চরম দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে যেভাবে তিনি বর্তমানে ইসরোর চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হয়েছেন তা নিঃসন্দেহে সকলকে অনুপ্রাণিত করার মতোই।

এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে 1957 সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বর্তমান ইসরোর চেয়ারম্যান। তার ছোটবেলা এতটাই আর্থিক সমস্যার মধ্যে কেটেছে যেখানে তার পায়ে দেওয়ার মত চটি বা জুতো কেনার মত সামর্থ্য ছিল না তার পরিবারের। স্কুলে পড়াকালীন তার বাবার আম বাগানে কাজ করতে হতো ছুটির দিনে তিনি খালি পায়ে আম বাগানে পাহারা দিতেন। এমনকি তার কলেজে পড়াকালীন অবস্থায় আধুনিক পোশাক আসার কেনার মত সামর্থ্য ছিল না তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে তিনি ধুতি পড়েই কলেজ যেতেন।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিবন বলেন, ছোটবেলায় আমার জীবন খুবই মজাদার ছিল আমি ছোটবেলায় স্কুল জীবনের পাশাপাশি আমের ফসলের খেতেও কাজ করেছি কারন আমার বাবা পেশায় ছিলেন একজন কৃষক। আর তিনি আমের মৌসুমে আমের ব্যবসা করতেন তবে ছুটির সময় আমি যখন বাড়িতে থাকতাম বাবা কোন শ্রমিক রাখতেন না আমিই বাবাকে হেল্প করতাম এই কাজে।তবে এখানেই শেষ নয় নিজের কলেজ জীবন নিয়ে শিবন বলেন, এরকম অনেক পড়ুয়ারা আছে যারা নিজের পছন্দমত কলেজ বাছেন কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কলেজ বাছার শর্ত ছিল, যেটি ছিল কলেজটি আমার বাড়ির কাছে হতে হবে।

আর আমি মাদ্রাজা আইআইটি তে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত খালিপায়ে হাঁটতাম এমনকি আমার কাছে পড়ার মতো পায়জামা ও ছিল না তাই ধুতি পড়েই কাজ চালাতাম। তিনি বলেন আসলে আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার বাবা বলেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া অনেক খরচা সাপেক্ষ। আমি এর জন্য প্রতিবাদ করেছিলাম এমনকি এক সপ্তাহ না খেয়ে ছিলাম কিন্তু তাতেও আমার বাবাকে তার মত থেকে এক পাও সরাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত আমি আমার নিজের মত বদলাতে রাজি হই। তারপর অঙ্ক নিয়ে বিএসসি করি। বিএসসি পাশ করার পর বাবা বললেন, আমি একবার তোমাকে আটকেছি, আর আটকাব না।

নিজের জমি বিক্রি করে তোমাকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াবো।” তারপর ইসরোর চেয়ারম্যান বলেন এরপর আমি বি- টেক করি বেশ কিছুদিন চাকরির অভাবে ভুগেও ছিলাম। সেই সময় একমাত্র হ্যালেই চাকরি করার সুযোগ ছিল কিন্তু আমি চাকরিটা পাইনি তাই আমি আবার পড়াশোনা করতে শুরু করি। তারপর আইআইএসসি তে ভর্তি হই। শুধু তাই নয় এই দিন ইসরোর প্রধান আবেগ করে বলেন আমি জীবনে যা চেয়েছিলাম তা কখনোই পাইনি আমি চেয়েছিলাম উপগ্রহ কেন্দ্রে যোগ দিতে কিন্তু আমার পোস্টিং হয় বিক্রম সারাভাই সেন্টারে।” তবে এটা বলা বাহুল্য যে যেভাবে তিনি জীবন যুদ্ধের সংগ্রাম করে এসেছেন তা এখনকার যুবকদের কাছে এক অনুপ্রেরণার মিশাল।