বিজেপি কে রুখতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করতে আপত্তি নেই বামেদের,সাফ কথা বিমান বসুর

সালটা ২০১১, গত ৩৪ বছরের বাম সরকারকে পর্যদুস্ত করে বাংলায় প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর অবশ্য ১০টি বছর কেটে গেছে। ২০১১ এর পর অবশ্য ২০১৬ সালে কংগ্রেসের সাথে জোট করলেও তেমন আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়েছিল বামফ্রন্ট। আর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট। তবে শুধুমাত্র বাংলায় নয় গোটা দেশেই বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে বামফ্রন্ট।

বর্তমানে বিজেপি বিরোধী মুখ হিসাবে গোটা ভারতের কাছে একমাত্র মুখ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।২০২১ সালে ২১৩ টি আসন নিয়ে বিধানসভা নির্বাচন জয়লাভ করে তৃণমূল বুঝিয়ে দিয়েছে আগামী দিনে দিল্লি হবে তাদের পরবর্তী টার্গেট। এদিন জাতীয় কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়া টুইটারে জানিয়েছে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত শক্ত করতে তারা বদ্ধপরিকর। আজই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

২৮ তারিখ দিল্লিতে একটি অবিজেপি বিরোধী দলের বৈঠক হওয়ার কথা আছে। এমতাবস্তায় বামফ্রন্ট যে সংকট অবস্থায় রয়েছে তা আলাদা করে বলে দেওয়ার কিছু নেই। কিছুদিন আগে অবশ্য রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন রাজ্যে বিরোধিতা করলেও কেন্দ্রে বিজেপি কে লোকসভা নির্বাচনে হারাতে তৃণমূলের হাত ধরতে কোন আপত্তি নেই বামেদের।

বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে মমতার উত্থান যে কেন্দ্র বা রাজ্যে ক্রমশ বাম শিবিরকে কোণঠাসা করে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে রাজনৈতিক মতাদর্শ না মেলায় কারণ ভাবতে শুরু করলে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বামেদের। বামেদের প্রধান শত্রু হিসেবে ধরতে গেলে প্রথম নাম উঠে আসে বিজেপির। এদিন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর গলায়ও বিজেপি বিরোধী সুর তিনি বলেন ‘বিজেপি তো দেশটাকে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। ওদের ষড়যন্ত্রে দেশের মানুষের দুর্দশা বেড়েছে, জনবিরোধী এই শক্তিকে থামাতেই হবে।

সেজন্য সর্ব ভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী ঐক্য কে থাকল সেটাই বড় ফ্যাক্টর নয়, বিজেপিকে রুখে দেওয়াই আমাদের সকলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত’। কি আবার মনে করছেন বামেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে গেলে মমতার পাশে থাকা ছাড়া গতি নেই। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে মহা জোট গড়ে তুলতে চলেছেন বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জোটে না থেকে আলাদা ভাবে বিজেপি বিরোধিতা করা মানে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বলে মনে করছেন অনেকেই। আর এই সমস্ত কথা মাথায় রেখেই তৃণমূলকে বার্তা দিতে চাইলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।