মুম্বইয়ে রিয়ালিটি শো এ ডাক পেলেন লতাকণ্ঠি রানাঘাটের ভবঘুরে মহিলা রানুদেবী..

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক গানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেলেন রানাঘাটের বেগোপাড়ার লতা কণ্ঠিত রানু মন্ডল। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন জিনিস ভাইরাল হতে বেশি সময় নেয় না তা আমরা খুব ভালো করেই জানি। রানু মন্ডল এর ক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনা ঘটেছে। তার একটি গানের ভিডিও রাতারাতি ভাইরাল হয়ে ওঠে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সুদূর বাংলাদেশ, মুম্বাই, কেরালা এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে গান করার জন্য ডাক পড়ে।

গানের ব্যাকরন না জানা সত্ত্বেও 54 বছর বয়সের এই মহিলা আজ বিখ্যাত।ঘটনাটি ঘটে রানাঘাট স্টেশনে। গত মাসের কুড়ি জুলাই তার একটি গানের ভিডিও মোবাইলে তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন অতীন্দ্র চক্রবর্তী নামে স্থানীয় এক যুবক। তিনি বলেন, তার গলায় এরকম একটা প্রতিভা আছে তা সত্যিই জানা ছিল না। তার গান মোবাইলে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ার পরে ঝড়ের গতিতে তা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি অনেক নামজাদা মানুষের ও তার প্রশংসা করেছেন। এরপর মুম্বাই থেকে গানের রেকর্ডিং করার জন্য তার ডাক পড়েছে।

শুধু এটাই নয় ওখান থেকে প্লেনের টিকিট কেটে তাকে মুম্বাই এ আনার কথা বলেছেন তারা। এছাড়া বাংলাদেশ, কেরল এবং কলকাতা থেকে বিভিন্ন গানের রেকর্ডিং এর জন্য তাকে ডাকা হচ্ছে। তবে তার বিশেষ কোনো পরিচয় পত্র না থাকার কারণে তাকে নিয়ে যাওয়া সমস্যা হচ্ছে। রানুদেবী বলেন, আপনাদের ভালোবাসা পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে। মুম্বাইয়ে লতাজির সঙ্গে দেখা হলে প্রথমে তাকে নমস্কার করবো এবং তার গলা যে আমার ছোটো থেকে ভালো লাগতো সেকথাও জানাবো। বেগো পাড়ার 38 নম্বর জাতীয় সড়কে একটি ছোট্ট বাড়িতে কোনো রকমের থাকেন রানুদেবী।এনার জন্ম হয় 1965 সালে কৃষ্ণনগরের রমন কার্তিক পাড়ার কলোনিপাড়া এলাকায়। এরপর মুম্বাই বাবুল মন্ডল নামে এক রাধুনির সাথে তার বিয়ে হয়।

স্বামী মারা যাওয়ার পর রানুদেবী মুম্বাই থেকে রানাঘাট চলে আসে। তার ছেলে অমিত মন্ডল এবং মেয়ে সাথী মন্ডল মুম্বাইয়ে থাকেন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত।
ছোটবেলা থেকে তিনি কখনো গান শেখেননি। যা গান শিখেছেন রেডিও ও টিভি দেখে। তার স্মৃতি শক্তিও কিছুটা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। তিনি এও জানান রানাঘাটে কয়েকটি অনুষ্ঠানে গান গিয়েছিলেন তিনি। তবে তিনি কেন এরকম ভবঘুরে তা জানাতে পারেননি।
জানা গিয়েছে এর আগে ঘুরে ঘুরে গান গাইতেন রানুদেবী। তার গান শুনে যে যেমন সাহায্য করতো তা দিয়ে তার দিন পেরিয়ে যেত। ইচ্ছে হলে কোন দিন বাড়ি ফিরতেন না হলে স্টেশনে রাত কাটিয়ে দিতেন। তার গান ভাইরাল হওয়ার পর তিনি এখন বিখ্যাত।

পরনে মহিলা চুড়িদার, অগোছালো চুল দেখে অনেকেই তাকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিতেন বা পাশ কাটিয়ে চলে যেতেন। এখন তার গলায় দুলাইন গান শোনার জন্য পাড়া-প্রতিবেশী তার কাছে ভিড় জমাচ্ছে। সবাই অনুরোধ করার পর তিনি গাইছেন, ‘কুচ খো কার পানা হে, কুচ পা কার খোনা হে।’

Related Articles

Close